বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস, ভারী বৃষ্টিপাত এমনকি ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন পরিস্থিতিতে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোট নিয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট হবে কি না, এ নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। তবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এ নিয়ে কমিশনে আলাপ-আলোচনা চলছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে।’
নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন চলছে। ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে নির্বাচন উপযোগী ৪৮৫ উপজেলায় চার ধাপে ভোট হচ্ছে এবার। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ভোট শেষ হয়েছে। ২৯ মে ১১১ উপজেলায় তৃতীয় ধাপের ভোট সিদ্ধান্ত আজ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাচন বাতিল হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে আগামী দুদিন উপকূলীয় জেলাসহ সারা দেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ২৯ তারিখ থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে আসবে।
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রার ক্ষয়ক্ষতির ওপর নির্ভর করবে ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছি। ঝড় এখনো আঘাত হানেনি। আঘাত হানার পর সিদ্ধান্ত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন ঝড়টা মারাত্মক আঘাত না হানে।’
এদিকে নির্বাচন বাতিল হবে কি হবে না, এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে। এ বিষয়ে আলাপকালে এক নির্বাচন কমিশনার জানান, তৃতীয় দফার ভোট নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন। কেউ আবার নির্বাচন বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। ভোট হবে কি হবে না তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বৃষ্টিপাত। ওই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে বৃষ্টি হয়েছে। এখন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব যদি তীব্র হয় তবে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা অতীতে এমনটাই দেখেছি। এর মধ্যে ভোট হলে ভোটাররা আগ্রহ দেখাবে না, এটাই স্বাভাবিক। এতে ভোটার উপস্থিতি আরও কম হবে।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শুরু থেকে ভোটার উপস্থিতি কম। প্রথম ধাপের ভোট হয় গত ৮ মে। ওইদিন ভোট পড়েছিল মাত্র ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। প্রথম ধাপে ভোটার কম হওয়ার জন্য বৃষ্টি ও ধান কাটার মৌসুমকে দায়ী করেছিলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।
ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় বেশ সমালোচনায় পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে। উপজেলা নির্বাচনে ভোটের খরা কাটাতে দ্বিতীয় দফায় নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে তাতেও খরা কাটেনি। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে তৃতীয় ধাপের ভোটে ভোটার উপস্থিতি আরও কম হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
