মে মাসে ৩৩ শতাংশ বেড়েছে রেমিট্যান্স

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ১২:২৫ এএম

ডলারের দাম এক ধাক্কায় সাত টাকা বৃদ্ধিতে প্রবাসী আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। সদ্য শেষ হওয়া মে মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২২৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের মে মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৬৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক দেশ রূপান্তরকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত মাসে ডলারের মূল্য নির্ধারণে ক্রলিং পেগ চালুর পর প্রবাসী আয়ে এমন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। অবশ্য কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার কারণেও রেমিট্যান্স বেড়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের মে মাসে যে রেমিট্যান্স এসেছে, তা গত ৩৪ মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল, ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। ওই অর্থবছরের পুরো সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল, ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরে ওই রেকর্ড না ভাঙলেও ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আসতে পারে রেমিট্যান্স।

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে থাকা বাংলাদেশের জন্য রেমিট্যান্সপ্রবাহ বৃদ্ধি স্বস্তির সংবাদ। গত ২৯ মে পর্যন্ত বিপিএম৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে তিন মাসের আমদানিব্যয় মেটানো যাবে। অবশ্য ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখনো ১৪ বিলিয়নের নিচে রয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য বিদায়ী মে মাসের পুরো সময়ে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন বা ২২৫ কোটি ডলারে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের ৮ মে ক্রলিং পেগপদ্ধতি বাস্তবায়নের কারণে এক লাফে ডলারের দাম ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা করা হয়। ক্রলিং পেগপদ্ধতির আওতায় ডলারের মধ্যবর্তী একটি দাম নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলোকে। ওই দরের আশপাশে লেনদেন করতে পারবে ব্যাংকগুলো। রেমিট্যান্সের ডলার সর্বোচ্চ ১১৮ থেকে ১১৯ টাকা করে কিনছে অনেক ব্যাংক। এর সঙ্গে সরকারি প্রণোদনা রয়েছে আরও আড়াই শতাংশ। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রতি ডলারে ১২০ টাকারও বেশি পাচ্ছেন। অন্যদিকে চলতি জুন মাসেই রয়েছে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে এই উৎসবও ভূমিকা রেখেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কোরবানির প্রস্তুতি হিসেবে পরিবারের কাছে প্রবাসীরা মাসটিতে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আবার ডলারের দর এক দিনেই সাত টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী আয় বৈধপথে পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন তারা। এসব কারণে বেড়েছে প্রবাসী আয়। এটা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৩৬ কোটি ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৪২ কোটি ডলার। সে হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের উল্লিখিত সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৯৪ কোটি ডলার, এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত