দেশে চোরাচালানের মাধ্যমে বছরে ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার সোনা, হীরা বা জুয়েলারি আসছে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২২০ কোটি টাকার সোনা ও সোনার অলংকার এবং ৩০ কোটি টাকার হীরা ও হীরার অলংকার বাংলাদেশে আসছে। সে হিসেবে ৩৬৫ দিন বা এক বছরে ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সোনা ও ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার হীরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে আসছে। এই পুরো টাকাটাই হুন্ডির মাধ্যমে সোনা ও হীরা চোরাকারবারিরা বিদেশে পাচার করে থাকে।
বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) নেতারা বলছেন, সোনা চোরাচালানের খবর পাওয়া গেলেও হীরা চোরাচালানের খবর পাওয়া যায় না। এসব চোরাচালানের কারবারিরা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সংকটে পড়ছে বৈধ ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে চোরাকারবারিদের ধরতে চিরুনি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল সোমবার রাজধানীতে সোনা ও হীরা চোরাচালান বন্ধে করণীয় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, বাজুস কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মো. রিপনুল হাসান, সহসভাপতি মাসুদুর রহমান, কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, ইকবাল উদ্দিন, আলী হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বাজুস নেতা রিপনুল হাসান জানান, হীরা আমদানিতে শুল্ককর অনেক বেশি। বন্ড সুবিধা ছাড়া অমসৃণ হীরা আমদানিতে কর ৮৯ শতাংশ। মসৃণ হীরা আমদানিতে কর প্রায় ১৫১ শতাংশ। এই শুল্ককর ফাঁকি দিতেই মূলত অবৈধ পথে বিপুল পরিমাণে হীরা আসছে। দেশের হীরার বাজার প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এই হীরার বাজার পুরোটাই চোরাচালান নির্ভর থাকার কারণে গত ১৯ বছরে এই মূল্যবান রতœ আমদানিতে সরকার মাত্র ১২ কোটি টাকার রাজস্ব পেয়েছে। যা খুবই সামান্য।
বাজুসের হিসাবে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০টি জেলার সীমান্ত অবস্থিত। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা এই ৬ জেলা সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হয়ে উঠেছে। ভারতে পাচার হওয়া সোনার বড় একটি অংশ এসব জেলার সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়। বাজুস বলছে, প্রতিদিন সারা দেশের জল, স্থল ও আকাশপথে কমপক্ষে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার, সোনার বার ও হীরার অলংকার চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসছে। যা বছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি। এই পুরো টাকাটাই হুন্ডির মাধ্যমে সোনা ও হীরা চোরাকারবারিরা বিদেশে পাচার করছে। ফলে সরকার রেমিট্যান্স হারাচ্ছে এবং সোনা ও হীরা চোরাকারবারিরা তাদের অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে সোনা ও হীরা চোরাচালান রোধে সরকারের কাছে বাজুস বেশ কিছু সুপারিশ করে। এগুলো হলো সোনা ও হীরা চোরাচালানে জড়িতদের ধরতে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জোরালো অভিযান করা; সোনা ও হীরা চোরাচালান প্রতিরোধে বাজুসকে সম্পৃক্ত করে পৃথকভাবে সরকারি মনিটরিং সেল গঠন করা; ব্যাগেজ রুল সংশোধনের মাধ্যমে সোনার বার আনা বন্ধ করা; ট্যাক্স ফ্রি সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ১০০ গ্রামের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম করা; একই ধরনের অলংকার দুটির বেশি না আনা; একই সঙ্গে একজন যাত্রীকে বছরে শুধুমাত্র একবার ব্যাগেজ রুলের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে এমন বিধান করা।
