ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি প্রজ্জ্বল রেভান্না রাজনীতির ময়দানে নামেন ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের সময়ে। যদিও সেই সময়ে ভোটে লড়ার অনুমতি মেলেনি ২৪ বছরের তরুণের। তবে প্রিয় নাতির নির্বাচনী অভিষেকের জন্য নিজের আসন ছেড়ে দেন দেবেগৌড়া। কর্নাটকের হাসান কেন্দ্র থেকে ২০১৯ সালে জিতে সাংসদ হন প্রজ্জ্বল রেভান্না। দেবেগৌড়া নিজেও যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন রেভান্নাকেই।
কিন্তু তরুণ নেতার যৌন লালসার শিকার হয়েছেন ৪০০ নারী। এবার ২০২৪ এসে সেই কলঙ্কের দাগ লাগল লোকসভা নির্বাচনে। সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে হেরে গেলেন প্রজ্জ্বল রেভান্না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ২০১৯-এর পর থেকেই বদলে যায় তরুণ সাংসদের জীবনযাত্রা। বড়সড় সেক্স স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়েন রেভান্না। লোকসভা নির্বাচন চলাকালীনই ভাইরাল হয় তার অসংখ্য সেক্স টেপ। অভিযোগ ওঠে তার বাড়ির পরিচারিকাদের টানা তিন বছর ধরে যৌন হেনস্তা করেছেন প্রজ্জ্বল। কেবল ধর্ষণ নয়, ভিডিও ও ছবি তোলার মতো নানা অভিযোগও ওঠে। গোটা বিষয়ে জড়িয়ে যায় প্রজ্জ্বলের বাবা রেভান্নার নামও। তদন্ত শুরু হতেই বিদেশে পালিয়ে যানতিনি। এক মাস পরে দেশে ফিরতেই বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন।
এত বিতর্ক, এত কেলেঙ্কারি-সবই ছাপ ফেলে দিল ইভিএমে। রাজনৈতিক শক্তি, সাংসদের ক্ষমতা পরাভূত হলো জনতার দরবারে। কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরে গেলেন যৌন কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত। কিন্তু দ্বিতীয়বার সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে চেষ্টার কমতি ছিল না রেভান্নার। তার হয়ে প্রচার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং।
বিরাট জনসভায় মঞ্চে গিয়ে রেভান্নার হাত ধরে আমজনতার কাছে ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সম্মান হারানো নারীদের যন্ত্রণা, চোখের জলের কাছে ফিকে হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের সামনে। বাবা-ছেলের ষড়যন্ত্রে সম্মান হারানো নারীরা জবাব দিলেন ভোটের ময়দানে।
‘ধর্ষক’ প্রার্থীদের নির্বাচনে জয় পাওয়া ভারতে যেন জলভাত। রাম রহিম থেকে শুরু করে ব্রিজভূষণ শরণ সিং, উদাহরণের অভাব নেই দেশে। কিন্তু সেই ছবিটা পালটে দিল অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচন। যৌন হেনস্তায় অভিযুক্তের জায়গা সংসদ নয় জেল, সেটাই বুঝিয়ে দিল কর্নাটকের হাসান।
নিজের আসনেও কি মোদির জনপ্রিয়তা কমছে?
বুথ ফেরত জরিপের সঙ্গে মিলছে না প্রকৃত হিসাব