চন্দনাইশে গরু মোটাতাজা করায় ব্যস্ত খামারিরা, দাম নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:৪০ পিএম

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদ ঘিরে বেশি লাভের আশায় দেশি পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চন্দনাইশের খামারিরা। পশু বিক্রির সময় ঘনিয়ে আসায় ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা ও ভুসি খাইয়ে গরুর যত্ন নিচ্ছেন তারা।

দেশি পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে গত বছর বেশ দাম পেয়েছেন খামারিরা। এবারও তারা ভালো দাম পাবার আশা করছেন। কিন্তু তা নির্ভর করবে ভারতীয় গরু না ঢোকার ওপর। একইসঙ্গে গো-খাদ্যের দাম দিন দিন বেড়ে চলায় শঙ্কিত তারা। ইতোমধ্যে হাটগুলোয় বাড়ছে পশুর সংখ্যা। অস্থায়ী হাট বসাতে চলছে প্রচার-প্রচারণা। গরু চুরি বন্ধে সতর্ক উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চন্দনাইশে ছোট-বড় মাঝারি মিলিয়ে দুধের খামার আছে ১১৮টি। আর হৃষ্ট পুষ্টকরণ খামার আছে ১৮০টি। উপজেলায় এসব খামারে এ বছর ২০ হাজার ৩২২টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩১৩টি বলদ, ১ হাজার ৪৮৯টি গাভীসহ মোট ২৪ হাজার ১২৪টি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৬৫৭টি মহিষ, ১৫ হাজার ৬৩৭টি ছাগল ও ১ হাজার ২৫৪টি ভেড়ার চাহিদা রয়েছে। উপজেলায় প্রয়োজন ৪২ হাজার ৬৮২টি পশু।

ছবি: প্রতিনিধি

কোরবানিতে দেশি গরুর চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় খামারিদের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলোও গরু মোটাতাজা করছে। কারণ যে গরু যত আকর্ষণীয়, হৃষ্ট-পুষ্ট সে গরুর চাহিদা তত বেশি। উপজেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশুকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। তাদের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের কৃষকরাও এখন পুরোদমে ব্যস্ত। গরুকে খড়, তাজা ঘাস, খৈল ও ভুসি ছাড়াও খাওয়ানো হচ্ছে হরেক পুষ্টিকর খাবার। ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হচ্ছে গরুর স্বাস্থ্য।

কয়েকজন খামারি ও চাষি জানান, সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিক পন্থায় মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি-গুঁড়, ভাতের মাড়, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাসকলাই, মটরের ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা গরুর চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যায়। 

খামারের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ঈদ কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করতে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো  পাইকারের দেখা মেলেনি। খামার মালিক যদি গরুর ন্যায্য দাম না পায় তাহলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে। খামারে রোজগারের টাকা দিয়েই তাদের সংসার চলে। 

চন্দনাইশ সাতবাড়িয়া এলাকার আল্লাহর দান ও খাজার শান ফার্মের মালিক খামারি মো. আকতার হোসেন ও লিপি আকতার দম্পতি বলেন, ধানের কুড়া, কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, ভুট্টা, ডাল, সরিষার খৈল, আখের গুঁড় ও লবণসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এবারের ঈদে ভারত থেকে পশু আমদানি না হলে দেশি খামারিরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি আগামীতে খামার করতে উৎসাহিত হবেন অনেকে। গত বছর ৩০টি ষাঁড় পালন করে ৪-৫ লাখের বেশি টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর ষাঁড় পালন করছি। স্থানীয় হাটেই বিক্রি করব।

সাঙ্গুর ম্যানেজার মোস্তফা কামাল ও কৃষাণের মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, খামারে গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গরুকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। দেশি গরুর চাহিদা থাকায় প্রতিবছর খামার থেকেই ক্রেতারা গরু কিনে নিয়ে যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার ডা. মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ঈদের প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই খামারিরা পশু মোটাতাজা করতে শুরু করেন। উপজেলার প্রতিটি খামারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে। খামারিদের সচেতন করতে নিয়মিত সভা-সেমিনার হয়েছে। উপজেলায় এবার ৪০ হাজারের ওপরে কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। হাটগুলোয় সুস্থ-সবল পশু বিক্রির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ভেটেরিনারি টিম কাজ করবে। ওষুধের দোকানে যাতে ক্ষতিকর কোনো ওষুধ বিক্রি না হয় সেজন্যও মনিটরিং করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত