ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন, সুদহার বৃদ্ধিসহ নানা কারণে চলতি বছরের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে মন্দা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এমন মন্দা পরিস্থিতিতে দরপতন আরও উসকে দিয়েছে মূলধনী মুনাফায় করারোপের প্রস্তাব। এতে করে প্রায় এক মাস ধরেই পুঁজিবাজারে টানা দরপতন চলছে। করারোপের প্রস্তাবটি বহাল থাকায় বাজেট পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসেও বড় দরপতন হয়েছে। ক্রেতারা সাইড লাইনে ফিরে যাওয়ায় গতকাল রবিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া ৮৭ শতাংশ সিকিউরিটিজের দাম কমেছে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ৬৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। ফলে সূচকটি প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময়ের আগের অবস্থানে ফিরে গেছে।
পুঁজিবাজারে চলমান দীর্ঘ মন্দার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজারের মূলধনী আয়ের ওপর নতুন করে করারোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাজেটে প্রস্তাব অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে ব্যক্তিশ্রেণির কোনো বিনিয়োগকারী ৫০ লাখ টাকার বেশি মূলধনি মুনাফা করলে তার ওপর করারোপ করা হবে। আবার তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট করহারের ব্যবধান না বাড়িয়ে উল্টো কমিয়েছেন তিনি। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর হার আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
যদিও বাজেট ঘোষণার আগে থেকে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে মূলধনী মুনাফার ওপর করারোপ না করার দাবি জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মূলধনি মুনাফায় করারোপ করা হয়। মন্দার সময়েও পুঁজিবাজারের প্রতি বিরূপ আচরণের প্রভাবে ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই সাইড লাইনে ফিরে গেছেন। টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের কারণে বিদেশিরা নিয়মিত শেয়ার বিক্রি করছেন। বিক্রিচাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নেই। যার ফলে বাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমে যায়। অনেক শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে ঢালাও দরপতন হচ্ছে বাজারে।
গতকাল বাজেট-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। গতকাল পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় সূচকের সামান্য উত্থান দিয়ে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই উত্থান পতনে রূপ নেয়। এরপর বেলা যত বেড়েছে, পতনের তীব্রতাও ততই বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচকটি ৬৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১৭১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাজেটের পর প্রথম কার্যদিবসে বড় দরপতনের ফলে ডিএসইএক্স সূচকটি আবারও ২০২১ শুরুর অবস্থানে ফিরে গেছে। এর আগে সর্বশেষ এ সূচকটি ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ৫ হাজার ১৬৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭০ শতাংশেরই দাম কমেছে। দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশের। আর সিএসইর সার্বিক সূচকটি ১০৬ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১৪ হাজার ৮৪০ পয়েন্টে।
দুই বাজারে সূচক কমলেও লেনদেনের ক্ষেত্রে ছিল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা। ঢাকার বাজারে লেনদেন কমলেও বেড়েছে চট্টগ্রামের বাজারে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৫৮ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৮৫ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রামের বাজারে এদিন লেনদেন হয় ১০৮ কোটি টাকার, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৯৪ কোটি টাকা বেশি।
