শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুঁজিবাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০১:২৮ এএম

চার বছর ধরে পুঁজিবাজারে মন্দা চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রুগণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ মন্দার কারণে একটি প্রজন্ম পুঁজিবাজারবিমুখ হয়ে পড়েছে। এ কারণে নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন না। আবার দীর্ঘ লোকসানের বোঝা বইতে না পেরে বিনিয়োগকারীরা একে একে পুঁজিবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মূলধনি মুনাফায় করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার ফলে টানা দরপতনে পড়েছে পুঁজিবাজার। তাই চূড়ান্ত বাজেটে মূলধনি মুনাফায় করারোপের প্রস্তাবটি পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ)।

গতকাল মঙ্গলবার বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানিয়েছেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিবিএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাইফউদ্দিন, সহসভাপতি ওমর হায়দার খান, মফিজউদ্দিন, সুমন দাশ প্রমুখ।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১০ সাল থেকেই আমরা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ১৪ বছরে বাজার স্থিতিশীল করতে পারিনি। একটি প্রজন্ম বাজারবিমুখ হয়ে পড়ছে। যে হারে বাজারে পতন হচ্ছে এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা মূলধনি মুনাফার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু বাজারের যে পরিস্থিতি, এখন মূলধনি মুনাফার ওপর করারোপের সময় নয়। তাই আমরা এ সিদ্ধান্ত এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই। পাশাপাশি কীভাবে সহজে মূলধনি মুনাফার ওপর থেকে কর কাটা হবে, তার একটি পথনকশা আশা করছি। বর্তমানে যে বিধান করা হয়েছে, তাতে উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে এই করহার গিয়ে দাঁড়াবে ৪১ শতাংশের বেশি। এত কর দিয়ে কোনো সম্পদশালী শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাবেন না। এ ছাড়া মূলধনি লোকসান সমন্বয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যাখ্যা দরকার। বাজেটে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

ডিবিএ ৪০ বছরের পুরনো একটি ব্রোকারেজ হাউজের তথ্য তুলে ধরে জানায়, গত পাঁচ মাসে ওই ব্রোকারেজ হাউজে মাত্র ২৪-২৫টি নতুন বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খোলা হয়েছে। অথচ একটি সময় বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে দিনে শতাধিক বিও হিসাব খোলা হতো। গত ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতির যতটা এগিয়েছে, তার কোনো প্রতিফলন বাজারে নেই। এজন্য বেশ কিছু কারণের কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তারা বলছে, ২০১০ সালের পুঁজিবাজার ধসের পর হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া ভালো কোনো কোম্পানি বাজারে আসেনি। এ ছাড়া বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিরও ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বাজারের প্রতি একটি প্রজন্ম আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ে নতুন করে কোনো গণজাগরণ তৈরি করতে না পারলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করেন ডিবিএ নেতারা।

ডিবিএ বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ারবাজার ধুঁকছে। এ অবস্থায় বাজারকে স্বাভাবিক ধারায় ফেরাতে হলে নীতিসহায়তা দরকার। তাই আমরা আশা করেছিলাম বাজেটে কিছু নীতিসহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু নীতিসহায়তার বদলে মূলধনি মুনাফা বা ক্যাপিটাল গেইনের ওপর নতুন করে করারোপ করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে; যার ফলে বাজেটের পর বাজারে টানা পতন চলছে।

ডিবিএ নেতারা মনে করেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে স্টক এক্সচেঞ্জ ও বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত ব্যর্থতা রয়েছে। এখন সেই ব্যর্থতা ভুলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে, তা না হলে পুঁজিবাজারবিমুখ হওয়া একটি প্রজন্মকে বাজারে আনা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএ নেতারা জানান, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এক দশক আগে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) পৃথকের মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচালকদের আনা হয়েছে। কিন্তু এ লম্বা সময়ে প্রকৃতপক্ষে স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো উন্নতি হয়নি। যেখানে স্বতন্ত্র পরিচালকরা সভায় কোনো ভূমিকা রাখেন না এবং নিষ্ক্রিয় থাকেন বলে অভিযোগ আছে। এমনকি তারা শুধু বোর্ড মিটিং ফি নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করেন বলেও গুঞ্জন আছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালকদের শেয়ার কারসাজি নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন পুনর্মূল্যায়নের (রিভিউ) সময়ে এসেছে বলে দাবি করেন ডিবিএ নেতারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত