চরম বিদ্যুৎ সংকট, উত্তরণের পথ খুঁজছে পাকিস্তান

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশা, অবকাঠামোগত সমস্যা, শাসনব্যবস্থা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতিগুলো পূরণের জন্য ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন।তবে এসব সমস্যার মধ্যেও বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তীব্রতা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুরবস্থার সর্বশেষ ধাপ হিসাবে কাজ করছে। 

পাকিস্তানে বিদ্যুতের হাহাকার দিনদিন বেড়েই চলছে। কারণ পাকিস্তানের সেকেলে বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। বার বার এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতির নতুন আরেকটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

বেইলআউট কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানকে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দিতে পারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তাই ইসলামাবাদ জরুরিভাবে আইএমএফের বেলআউট ঋণসুবিধা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে একটি উদ্বেগ রয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো পাকিন্তানের সংকট এড়াতে অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হতে পারে। 

গত জানুয়ারিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে পুরো পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে শুরু করে লাহোর, করাচি, কোয়েটা, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার কোথাও বিদ্যুৎ ছিল না সেদিন। দেশের প্রায় ২২ কোটিরও বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।

পাকিস্তানের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সিংহভাগ তেল-গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়। গত বছর থেকে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। এদিকে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। এ অবস্থায় দেশটির পক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। 

এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর ভূ-রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। এ কারণে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে পাকিস্তানের জন্য। 

পাকিস্তানের ক্রমাগত বিদ্যুৎ ঘাটতি, অপর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা এবং অদক্ষ বিতরণ পরিকাঠামো দেশটিকে বিদ্যুৎ আমদানির বিভিন্ন উপায় খুঁজতে বাধ্য করছে। আর এ কারণে পাকিস্তান  প্রতিবেশী মধ্য এশিয়ার দেশগুলো যেমন তাজিকিস্তান এবং কিরগিজস্তানের দিকে তাকিয়ে আছে। এসব দেশে প্রচুর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে যারা পাকিন্তানের জন্য বিদ্যুতের সম্ভাব্য সরবরাহকারী হতে পারে। এসব দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সুবিধার্থে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান। 

এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো সিএএসএ-১০০০ প্রকল্প, যার লক্ষ্য একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা যা তাজিকিস্তান এবং কিরগিজস্তানকে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি সহজ হবে। মধ্য এশিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে পাকিস্তান তার জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে পারবে এবং  জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণসহ বেশ কিছু সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

সূত্র: এশিয়ান লাইট

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত