আর মাত্র এক দিন পরই উদযাপিত হবে কোরবানির ঈদ। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করেছে। সড়কপথে নানা রকম ঝক্কি-ঝামেলা থাকলেও ট্রেনে মোটামুটি স্বস্তি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে ঘুরমুখো মানুষ। রেল কর্তৃপক্ষের নানা উদ্যোগের কারণে গত ঈদের মতো এবারও ট্রেনের টিকিট নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ কম। এরপরও ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। গতকাল স্বস্তি ট্রেন শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ঈদের পরের দিন সন্ধ্য ৬টা পর্যন্ত কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্যসব পণ্যবাহী (গুডস) ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এ ছাড়া আন্তঃদেশীয় মিতালি এক্সপ্রেস, মৈত্রী এক্সপ্রেস ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
গত বুধবার ঈদযাত্রার প্রথম দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের বিলম্ব নিয়ে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল, তা গত দুদিন আর দেখা যায়নি। সময়মতোই প্রায় সব ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে তেমন দুর্ভোগ চোখে পড়েনি। প্ল্যাটফর্মে যাতে টিকিট ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্টেশনের প্রবেশমুখে বাঁশ দিয়ে লাইন তৈরি করা হয়েছে। প্রবেশমুখে যাত্রীদের টিকিট চেক করতে দেখা গেছে।
ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে প্রায় সব ট্রেনই ছেড়েছে সময়মতো। সর্বোচ্চ ১০-২০ মিনিট বিলম্বে ছাড়লেও সেটি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন যাত্রীরা। স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম। বেশির ভাগ ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালের দিকে উত্তরবঙ্গে ট্রেনগুলোয় একটু ভিড় থাকলেও দুপুর পর্যন্ত সেই ভিড়ে ভাটা পড়ে। তাই সকাল ১০টার পর স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় তেমন থাকে না। তবে স্টেশন থেকে ট্রেনে যাওয়ার চেয়ে টিকিট সংগ্রহ এখন কঠিন বিষয়।
এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটের রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ৫ মিনিট দেরি করে ছেড়েছে ৯টা ১৫ মিনিটে। সকাল ১০টার জামালপুর এক্সপ্রেস ছেড়েছে সোয়া ১০টায়। সোয়া ১০টার একতা এক্সপ্রেস ছেড়েছে সাড়ে ১০টায়, সাড়ে ১০টার কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছেড়েছে ১০টা ৪০ মিনিটে, সোয়া ১১টার জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ছেড়েছে ১১টা ৩৫ মিনিটে, আর সাড়ে ১১টার অগ্নিবীণা ছেড়েছে ১১টা ৪০ মিনিটে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারোয়ার দুপুরে বলেন, ‘সকাল থেকে প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময় ছেড়ে গেছে। প্রথম দিনের মতো ট্রেনে কোনো বিলম্ব নেই। আমরা চেষ্টা করছি যথাসময়ে সবগুলো ট্রেন যাতে ছেড়ে যায়।’
এদিকে কোরবানির পশু পরিবহনের সর্বশেষ ট্রেন গতকাল দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। এর আগে পশ্চিমাঞ্চল থেকে পশু পরিবহনের লক্ষ্যে ১২ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন ১ ও ২ পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলে কোরবানির পশু পরিবহনের লক্ষ্যে ১২ জুন ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন ১ ও ২ এবং ১৩ জুন ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন ১ চলেছে।
