শেষ সময়ে বিক্রি বেড়েছে পশুর হাটে

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:১০ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র এক দিন। শেষ সময়ে বাড়তে শুরু করেছে পশু বেচাকেনা। রাজধানীর হাজারীবাগ হাট, পোস্তগোলা হাটসহ বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারা দেশ থেকে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে যেসব বিক্রেতা হাটগুলোতে এসেছেন শুরুর দিকে অনেকেই হতাশ ছিলেন। তারা বসে বসে অলস সময় পার করছিলেন। যদিও গরু বিক্রির ব্যাপারে এখন যথেষ্ট আশাবাদী বিক্রেতারা। সবাই আশা করছেন ঈদের আগেই আরও বেচাকেনা বাড়বে। বিভিন্ন আকারের ও রঙের গরু এসেছে হাটে। প্রচুর বড় গরু এনেছেন বিক্রেতারা। তবে মাঝারি আকারের গরুর সংখ্যাটা বেশি। সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাতে দেখা গেছে ব্যাপারীদের। অন্যদিকে খাসির দাম আকারভেদে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১৫ হাজার, আর সর্বোচ্চ জাত ও আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বসেছে এবারের হাট। বিশেষ করে পুরান ঢাকার হাজারীবাগের ট্যানারি মোড় থেকে কিছুটা সামনের দিকে এগোলে রাস্তার দুপাশে দেখা যাবে অসংখ্য গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। ফুটপাতের ওপর অস্থায়ীভাবে বাসস্থান গড়েছেন গরুর সঙ্গে আসা পাইকার, বিক্রেতা ও রাখালরা। এর বিপরীত পাশে রয়েছে ছাগলের হাট। বিকেলের পর থেকে বেচাকেনা বাড়তে দেখা যায়।

কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা আবদুর রহমান নামে এক বিক্রেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘তিনটি গরু নিয়ে এসেছিলাম গত পরশু। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। ক্রেতার সংখ্যা খুব কম। মানুষজন এখন হাটে আসতে উৎসাহবোধ করছেন না। আশপাশের অনেক ফার্ম থেকে গরু কিনে নিচ্ছেন তারা। যার প্রভাবেই এখানে ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। যারা আসছেন, তারাও ছোট গরুর দিকে নজর দিচ্ছেন।’

এই বিক্রেতা বলেন, ‘দুই-তিন বছর ধরে এই গরু বড় করতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। কম দামে গরু বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। যে অবস্থা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে না লাভে গরু বিক্রি করতে পারব।’

রাসেল নামে আরেক গরু বিক্রেতা বলেন, ‘সকাল থেকে একজন ক্রেতাও আসেননি। আশা করি জুমার নামাজের পর থেকে আসবেন। সেজন্য গরু গোসল করিয়ে, খাবার খাইয়ে প্রস্তুত করছি। মানিকগঞ্জ থেকে এই একটি গরুই নিয়ে এসেছি। ১৫ থেকে ১৮ মণ ওজন হবে। দাম চাচ্ছি সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ৪ লাখের মতো দাম উঠেছে। এখন গরু লালন-পালনে অনেক খরচ। কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।’

হাজারীবাগের হাটের ইজারাদার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. রাশেদ বলেন, সকাল থেকে ১০০টির মতো গরু বিক্রি হয়েছে। এখানে যারা আসেন তারা তো নিয়মিত কেনাকাটা করেন না। তাই একটু সময় লাগে। জুমার নামাজের পর ক্রেতা বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি, যাতে ক্রেতারা নির্ভয়ে এখানে কেনাকাটা করতে পারেন। পশু ডাক্তারও রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি ভালোই। আমরা আশা করি আরও জমজমাট হবে বেচাকেনা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত