রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রসহ আরসা কমান্ডার গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:২১ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জি-৩ রাইফেলসহ আরসার গান গ্রুপ কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার নাম মো. জাকারিয়া (৩২)। এ সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার র‌্যাব কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পায় উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি আরসার কিছু সদস্য ক্যাম্পে নাশকতার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র নিয়ে এসেছে। এই সূত্র ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ঘরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টাকালে আরসা সন্ত্রাসী মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাকারিয়া ১০ নম্বর ক্যাম্পের এফ-১৭ ব্লকের বাসিন্দা। তার দেওয়া তথ্যমতে, একটি ঘর থেকে একটি জি-৩ রাইফেল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। রাইফেলটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীসহ সে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে থাকে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকারিয়া র‌্যাবকে জানিয়েছে, তিনি ২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং ক্যাম্প-১০-এ সপরিবারে বসবাস শুরু করে। তার সঙ্গে আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠলে সে আরসায় যোগ দেয়। বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম দিকে সে আরসার সোর্স এবং পরে গান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে। এরপর ২০২৩ সালের শেষ দিকে সে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০-এর ব্লক-এফ/১৭-এর ব্লক কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পায়। এ সময় তার নেতৃত্বে আরসার অন্য সদস্যদের নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্য পরিচালনা হতো।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাব অধিনায়ক আরও জানান, ২০২২ সালে গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের সময় আরসা সন্ত্রাসীদের হামলায় গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বৃদ্ধি করলে সে পালিয়ে আবার মিয়ানমারে চলে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং গান গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে বিভিন্ন কিলিং মিশন ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে। সে অস্ত্র চালনায় দক্ষ হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত বিভিন্ন নাশকতা, মারামারি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করত বলে জানায়।

গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের উখিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া দুবার কারাভোগ করে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত