যুক্তরাজ্যে এ বছরের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ দল হারতে পারে তেমন আভাস মিলেছে আরও আগেই। তবে সেই শঙ্কার মধ্যেই সবাইকে চমকে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তার ধারণা ছিল, মূল্যস্ফীতিসহ অর্থনীতির বেশ কয়েকটি সূচক ইতিবাচক থাকায় ভোটের মাঠে সুবিধা পাবে তার দল। কিন্তু বিভিন্ন জরিপ বলছে, কনজারভেটিভদের অবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। আর নিজের আসনেই হেরে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন ঋষি সুনাক।
আগামী ৪ জুলাই দেশটির সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তার আগে দিয়ে সাভান্তা জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা।
গত ৭ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে প্রায় ১৮,০০০ মানুষের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ সদস্যের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে মাত্র ৫৩টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। যেখানে বিরোধী দল লেবার পার্টি পেতে পারে ৫১৬টি আসন।
আর পরাজিত হয়ে পার্লামেন্টে নিজ আসন হারাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।
সাম্প্রতিক বেশিরভাগ জনমত জরিপেই জাতীয় নির্বাচনে কির স্টারমারের লেবার পার্টিকে ভোটে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
সাভান্তা পরিচালিত জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে তার নর্থ ইয়র্কশায়ার রিচমন্ড আসনে লেবার দলের কাছে পরাজিত হতে পারেন। এমন হলে সুনাকই হবেন প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যিনি নিজ আসন হারাবেন।
নতুন আরও কয়েকটি জরিপের ফল বলছে, এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারের নির্বাচনে কনজারভেটিভরা সবচেয়ে শোচনীয় হারের মুখে রয়েছে। জেরেমি হান্টের মতো বিশিষ্ট নেতারাও এবার তাদের পার্লামেন্টারি আসন খোয়াতে পারেন।
আগামী ৪ জুলাইয়ের নির্বাচনে এমনকি ওয়েলসে কনজারভেটিভ পার্টির নাম-নিশানা পুরোপুরি মুছে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে কয়েকটি জরিপে।
