রাতে মোবাইল সংযোগ বন্ধ চান এমপি প্রাণ গোপাল

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ০১:৫৭ এএম

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত মোবাইল ফোনের সংযোগ নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো একটা অ্যাপস সৃষ্টি করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে মোবাইল টাওয়ারগুলো নিষ্ক্রিয় করা যায় কি না? অথবা সেই মোবাইল টাওয়ার যাতে ফ্রিল্যান্সিং বা বিদেশি মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার না হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। না হয় আমার রোগীর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, ১০ বছর থেকে শুরু করে সবার একটাই কথা কানে শোঁ শোঁ করে, ভোঁ ভোঁ করে। কানে শুনি না, লেখাপড়ায় মন দিতে পারি না।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ বন্ধ করতে নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের কথাও বলেন এই এমপি। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো কিছু আবিষ্কার করা উচিত, যাতে করে রাতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এ প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকবে।’

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘সবচেয়ে ব্যয়বহুল হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা উপকরণের দাম আকাশচুম্বী। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ভাষায় শিক্ষা ও চিকিৎসা থাকা উচিত সরকারি খাতে। একে বেসরকারীকরণ করা হলে শিক্ষা ও চিকিৎসার কোনো গুণগত মানের পরিবর্তন হয় না, তখন সেটা হয়ে যায় একটা পণ্য। এখন পৃথিবী জুড়ে এটা পণ্য হয়ে গেছে। আপনার টাকা আছে চিকিৎসা পাবেন, টাকা না থাকলে চিকিৎসা পাবেন না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের নি¤œ মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য দেখার কেউ নেই।’

অভিজাতরাই কালো টাকার মালিক : সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক বলেছেন, কালো টাকার মালিক হচ্ছে অভিজাতরা (হোয়াইটকলার)। দেশের কোটি কোটি কৃষক কালো টাকার মালিক নয়, যারা শিল্প-কল-কারখানা তৈরি করে তারা কালো টাকা তৈরি করে না। তিনি বলেন, প্রবাসীরা কালো টাকার মালিক না, অভিজাতরাই কালো টাকা তৈরি করে। কালো টাকার বিষয়ে নজর দিতে হবে।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সরকারদলীয় এ সংসদ সদস্য।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কালো টাকার বিষয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। আমরা এটা চাই না। আমাদের যে টাকা বিদেশে চলে গেছে, তা আনা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও ভালো হতো। অর্থনীতি কিছুটা হলেও চাঙ্গা হতো। কালো টাকা কমাতে হলে দুর্নীতি কমাতে হবে, ট্যাক্স কমাতে হবে। তবেই কালো টাকা জন্ম নেবে না। কালো টাকা জন্ম না নিলে টাকা পাচারও হবে না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিদেশি চকলেটের ওপর ট্যাক্স কমানো হয়েছে। আমি মনে করি, প্রয়োজন নেই। অর্থমন্ত্রীর নাতি-নাতনিরা হয়তো বিদেশি চকলেট পছন্দ করে, তাই ট্যাক্স কমাতে পারেন।’

রিজার্ভের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ২ লাখ বিদেশি কাজ করেন। তারা ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার তাদের দেশে পাঠিয়ে থাকেন যা রিজার্ভের ওপর চাপ ফেলছে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ, যা সব নাগরিকের অবসরকালীন আর্থিক মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে।’ এই ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার পঞ্চম স্কিম হিসেবে ‘প্রত্যয়’ ঘোষণা করেছে। সব স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা আগামী ১ জুলাই যোগ দেবেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে।’’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন বলেন, ‘কতিপয় দুর্নীতিবাজ আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। কানাডার বেগমপাড়ায়, আবুধাবি, মালয়েশিয়াতে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এ অপকর্মের দায় নিতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাব, যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের দায়-দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা এবং এ সংসদ নিতে পারে না।’ বৈধ রেমিট্যান্সের মাধ্যমে যাতে এ টাকা ফেরত আসে, সেই উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান মঈন উদ্দিন।

টাকা পাচারকারীদের দুষ্কৃতকারী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়। প্রধানমন্ত্রী এটা করবেন বলে আশা করি।’

যশোর-৬ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি টাকা পাচার, হুন্ডি ও বেটিং সাইট বন্ধ করে দিতে পারে তাহলে ৬ মাস নয়, তিন মাসের মধ্যে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশে নামে-বেনামে অনেকগুলো বেটিং সাইট আছে, নিম্ন আয়ের মানুষরাও তাদের অর্থ খোয়াচ্ছে। দেশের হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। মুখ থুবড়ে পড়ছে অর্থনীতি। এতে নষ্ট হচ্ছে মানুষের সুখের সংসার, যার পেছনে আছে জুয়া। সবকিছু আমাদের চোখের সামনে হচ্ছে।’ অনলাইন বেটিং সাইট বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত