প্রবল গরমের কারণে দিল্লিতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি শাসিত প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানার থেকে বাড়তি পানি চেয়েছিল দিল্লির রাজ্য সরকার। এ নিয়ে মামলাও হয় সুপ্রিম কোর্টেও। আদালতও পানি সরবরাহ বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাতে ফল হয়নি। উল্টো গরম যত বেড়েছে ততই বেড়েছে পানি সংকট। এর মধ্যে রাজ্যের পানি সংকট মেটাতে দিল্লির আম আদমি সরকারের শিক্ষা ও পানিসম্পদ মন্ত্রী অতিশী মারলেনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও লেখেন। সেই চিঠিতে তিনি জানান, যদি ২১ জুনের মধ্যে দিল্লির পানি সংকট না মেটে তবে তিনি অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশনে বসবেন। কিন্তু তার সে দাবি না মেটায় অনশন শুরু করেন তিনি। অনশনের চার দিনের মাথায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে। অবশ্য এই পরিস্থিতি বিরোধী জোট ইনডিয়া অতিশীর পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইস্যুটিও মোদি সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দিল্লি সাধারণত প্রতিদিন ১০০ কোটি ৫০ লাখ গ্যালন পানি পায়। হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে পানি আসে ৬১ কোটি ৩০ লাখ গ্যালন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে হরিয়ানা সরকার সেই পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। তারা এখন ৫১ কোটি ৩০ লাখ গ্যালন পানি ছাড়ছে। যার ফলে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।
এই অবস্থায় পানির দাবিতে কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে অনশনে বসেছিলেন অতিশী। অনশনের চার দিনের মাথায় গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি। সে সময় চিকিৎসকরা তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সুপারিশ করেন। অতিশীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে ক্ষতিকারক কিটোনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। তাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো প্রয়োজন। কিন্তু তাতে রাজি হননি অতিশী। তিনি বলেন, ২৮ লাখ দিল্লিবাসী পানি না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব। বিজেপি পরিচালিত হরিয়ানা সরকার গত ৩ সপ্তাহ ধরে দিল্লিকে ১০০ এমজিডি (মিলিয়ন গ্যালন পার ডে) পানি কম দিচ্ছে।
অবশ্য ভোররাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ (এলএনজেপি) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আপের দাবি, গত সোমবার মধ্যরাতে অতিশীর রক্তে শর্করার পরিমাণ (ব্লাড সুগার লেভেল) ৪৩ হয়ে যায়। ভোর ৩টা নাগাদ তা আরও কমে ৩৬ হয়।
অতিশীর অনশনে বসার সিদ্ধান্তকে ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন দিল্লির আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিহার জেল থেকে দেওয়া এক বার্তায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃষ্ণার্তকে পানি দেওয়া আমাদের সংস্কৃতি। এই নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। বিরোধী জোট ইনডিয়াও এই বিষয়ে অতিশীর পাশে দাঁড়িয়েছে। সোমবারই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, প্রতিমা মণ্ডল এবং সাগরিকা ঘোষ অনশনরত অতিশীর সঙ্গে দেখা করেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকেই দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়। বিশুদ্ধ পানির অভাবে নাজেহাল দশা দিল্লির বেশিরভাগ এলাকার মানুষের। তখনই আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন অতিশী মারলেনা। বিষয়টি নিয়ে অতিশী দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনার সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকের সময় চান। লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সে সময় হিমাচল প্রদেশ এবং হরিয়ানা সরকারকে দিল্লির জন্য পানি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লির পানির উৎস মূলত যমুনা, ইরাবতী, বিপাশা ও গঙ্গা। উত্তরপ্রদেশের আপার গঙ্গা খালের মাধ্যমে ৪৭০ কিউসেক পানি পায় দিল্লি। হরিয়ানা থেকে দুটি খাল দিল্লিতে ঢুকেছে। একটি ক্যারিয়ার লাইনড চ্যানেল এবং অন্যটি দিল্লি সাব ব্রাঞ্চ। যমুনা, ইরাবতী এবং বিপাশার পানি এই দুটি খালের মাধ্যমে দিল্লিতে আসে।
