নবমের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্বাস বিক্রির ওয়েব ঠিকানা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ এএম

সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের আলোচিত ‘শরীফ থেকে শরীফা’ হওয়ার গল্প নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। ইতিমধ্যে সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে আলোচিত ‘শরীফার গল্প’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমন সিদ্ধান্তের মধ্যেই সামনে এলো আরও এক বড় ধরনের অসংগতি। দেখা গেছে, নবম শ্রেণির ‘জীবন ও জীবিকা’ বইয়ে অন্তর্বাস বিক্রির ওয়েবসাইটের ঠিকানাযুক্ত কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে। ‘জীবন ও জীবিকা’ বইটি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন মো. মুরশীদ আকতার, মোসাম্মৎ খাদিজা ইয়াসমিন, হাসান তারেক খাঁন, মোহাম্মদ কবীর হোসেন, মো. সিফাতুল ইসলাম, মো. রুহুল আমিন, মো. তৌহিদুর রহমান, মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁঞা। বইটির শিল্প নির্দেশনা মঞ্জুর আহমদ, চিত্রণ সুবীর ম-ল, প্রচ্ছদ পরিকল্পনা মঞ্জুর আহমদ, প্রচ্ছদ প্রথমেশ দাশ পুলক, গ্রাফিকস নূর-ই-ইলাহী ও কেএম ইউসুফ আলী।

বইটির ৩৮ নম্বর পেজে ‘ধাপ-৬ : ব্যবসার ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং বা বিপণন পরিকল্পনা’ নামক অধ্যায়ে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রার জন্য কীভাবে ব্যবসায় শুরু করতে হবে সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পেজে ‘চিত্র ২.১ : বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের বিজ্ঞাপনের নমুনা’র চিত্র তুলে ধরে সেখানে নিত্যদিন স্টোরের একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, গুগল প্লাস, ভাইবার, লিংকডইন এবং পিনটারেস্টের লোগো দেওয়া হয়েছে। এই লোগো এবং নিত্যদিন স্টোরের মাঝখানে একটি কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে যেটা স্ক্যান করলে ত্রাকস (ঞৎঁপংং) নামক পর্তুগিজ একটি নারীদের অন্তর্বাস বিক্রির ওয়েবসাইটে নিয়ে যাচ্ছে। যেখানে অ্যাডাল্ট নারী মডেলরা অন্তর্বাস পরে সেটা বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে।

এখন অনেকের প্রশ্ন, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বইয়ে এ ধরনের ‘অ্যাডাল্ট’ ছবিসহ অন্তর্বাস বিক্রির ওয়েবসাইটের ঠিকানা কেন দেওয়া হয়েছে? এই অন্তর্বাস দিয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কী করবে?

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, কোমল বাচ্চাদের শিক্ষার নামে ভিন্নপথে চালিত করার জন্যই কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বাজে বিষয়গুলো পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করেছেন। কারণ সপ্তম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ‘শরীফ থেকে শরীফা’ হওয়ার গল্প পড়ে কী শিখবে? আর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাইবা অন্তর্বাস বিক্রির ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিয়ে কী করবে? দেখে মনে হচ্ছে এটা কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়; অনেকটা সুকৌশলে এই বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান ড. ফরহাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। যেহেতু বইয়ে কিউআর কোডটি বসানো হয়েছে, তাই আর সংশোধন করার সুযোগ নেই। বই প্রস্তুত করার সময় কিউআর কোডটি সার্চ করে খেলাধুলার পোশাকসামগ্রীর ছবি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন খেলাধুলার পোশাকের পরিবর্তে অন্যকিছু আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বছর থেকে আমরা একটি ফলস কিউআর কোড তৈরি করে বইয়ে সংযোজন করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত