জেলা পরিষদ সদস্যসহ দুজনকে বোমা মেরে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৪, ০২:২০ এএম

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জেলা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামসহ দুজনকে গুলি ও বোমা মেরে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি কলেজ এলাকায় এ হত্যাকান্ড ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

জেলা পরিষদ সদস্য সালাম (৫০) নয়ালাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নিহত অন্য ব্যক্তি হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি ফতেপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে ও শিবগঞ্জের হরিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন। আহতরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এস্তাম আলীর ছেলে আবদুর রহিম বাদশা ও রানীহাটি ফতেপুরের আবদুল মান্নানের ছেলে আবদুস সালাম টিটু। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এশার নামাজের পর রানীহাটি কলেজের সামনের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গার এত্তাজ আলী ছেলে আবদুস সালামসহ তার সঙ্গীরা। তখনই দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে ককটেল ও গুলি হামলা চালায়। দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সালাম। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করার পর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মুখমন্ডলকে বিকৃত করে দেয়। হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা রানীহাটি ফতেপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে স্কুলশিক্ষক মতিন আলীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসতাপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিম ইফতেখার জাহান বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে আবদুল মতিনকে এখানে (হাসপাতালে) নিয়ে আসা হয়। তার মাথা ও পায়ে গুলি লেগেছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।’

দুর্ঘটনায় আহত আবদুর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতে কলেজ মোড়ের গুচ্ছগ্রাম এলাকায় সালাম লিডারসহ আমরা কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এমন সময় পশ্চিম দিক থেকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে তারা বোমা ফাটায় এবং গুলি চালায়। আমি কোনোরকম পালিয়ে প্রাণ বাঁচাই। তারা সালাম ও মতিন মাস্টারকে কুপিয়ে রেখে চলে যায়।’

এদিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় আবদুস সালাম নিহত হওয়ার পর তার সমর্থকরা রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক ইট-বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য যান আটকা পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে আধঘণ্টার মধ্যে সালাম সমর্থকরা ব্যারিকেড তুলে নেন।

শিবগঞ্জের ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে পরিচিত রানীহাটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বিবদমান দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে বহু আগে থেকে। এর আগেও একাধিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে নয়ালাভাঙ্গা রানীহাটি এলাকায়। দুই-তিন মাস আগেও জেলা পরিষদ সদস্য ও নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রাইভেট কারযোগে বাড়ি ফেরার পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ মহাসড়কের সরকারের মোড় এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন। ওইদিন ককটেলের আঘাতে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

আবদুস সালামের হত্যাকান্ডের নয়ালাভাঙ্গা রানীহাটি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিহত আবদুস সালামের বাড়ির পাশে পারিবারিক গোরস্তানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন, শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেন। একই দিন বিকেলে ফতেপুরে জানাজা শেষে আবদুল মতিন মাস্টারকেও দাফন করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, নয়ালাভাঙ্গা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন আবদুস সালাম। এ বিরোধের জের ধরে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক কাজ করবে পুলিশ।

হত্যাকান্ডের ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার ছাইদুল হাসান ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত