জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের ঢাকার প্লট-ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব আদালত ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার পর খুলনায় তার সহায়-সম্পত্তির তথ্য সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে তার খুলনার বাড়ির সামনে থেকে নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনবিআরের প্রথম সচিব (কর) কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বাড়ি খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নী এলাকায়। তার বাবার নাম কাজী আব্দুল হান্নান ওরফে ফিরু কাজী। মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় (১৭ নম্বর রোডের সামনে ও ১১ তলার পাশে) কাজী ফয়সালের প্রায় দুই বিঘা জমির প্লট রয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকার যশোর রোডের নেসারিয়া মাদ্রাসার পাশে তার তিনতলা আরও একটি বাড়ি আছে। সেই বাড়ির গাড়িঘরে একটি দামি গাড়ি থাকলেও চার-পাঁচটা গাড়ি রাখার জায়গা রয়েছে। সেখানে তার মা এখন বসবাস করেন।
গত শুক্রবার বিকেলে কাজী ফয়সালের ওই বাড়িতে গেলে তার মা দরজা খুলতে রাজি হননি। কোনো কথা বলতেও চাননি তিনি। বাড়িটির ফটকে এর আগে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নেমপ্লেট (নামফলক) ছিল। সেই নেমপ্লেট তুলে ফেলা হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহফুজুর রহমান লিটন বলেন, কাজী ফয়সালদের এলাকার মানুষ সম্পদশালী হিসেবেই জানে। তবে তিনি এলাকায় কম আসতেন। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন কয়েক দফা দামি টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়িতে তার (কাউন্সিলর) কাছে সনদ নিতে এসেছিলেন। তিনি ওই হ্যারিয়ার গাড়িতেই ঘোরাফেরা করতেন।
এদিকে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকায় ১১৩ নম্বর সড়কে কাজী ফয়সালের শ্বশুরবাড়ি। কাজী ফয়সালের দুর্নীতির খবর প্রকাশ হওয়ার পর হঠাৎ করে ওই বাড়ির সবাই আত্মগোপন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজী ফয়সালের শ্বশুর বাড়ির নামফলকও খুলে ফেলা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেয় আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। জব্দের আদেশ হওয়া সম্পদের মধ্যে আছে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের ঢাকার একটি ফ্ল্যাট ও ১০ কাঠার দুটি প্লট। এ ছাড়া তার ও তার স্ত্রীসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করেছে আদালত।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে ১৮টি ব্যাংক হিসাব আছে। এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা জমা ও পরে এর বড় একটি অংশ উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। দুদকের নথিতে ফয়সাল, তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন, ফয়সালের ভাই খালিদ হাসান, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্যালক আফতাব আলী, খালাশাশুড়ি মাহমুদা হাসান, মামাশ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিন, আত্মীয় খন্দকার হাফিজুর রহমান, রওশন আরা খাতুন ও ফারহানা আফরোজের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
