গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে এমনিতেই চাপে আছে দেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্প খাত। প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে। গত কয়েক মাসে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর মধ্যেই সরকারের আবারও সিদ্ধান্ত এলো রপ্তানিতে প্রণোদনা কমানোর। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে আবার রপ্তানি প্রণোদোনা কমানোর এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রজ্ঞাপনে নগদ সহায়তা কমানোর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
আজ সোমবার শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিসহ সব খাতে নগদ সহায়তা আরও কমানো হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সব পণ্যে নগদ সহায়তা কমানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ থেকে জাহাজীকৃত রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা হবে দেড় শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে যা ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের প্রণোদনার হার দেড় শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা আরও কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এই হার ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়। নিট, ওভেন ও সোয়েটারসহ তৈরি পোশাক খাতের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত নগদ সহায়তা হবে ৩ শতাংশ। আগে যা ৪ শতাংশ ছিল। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা আবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যা ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয় ৩ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে যা ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়।
এ ছাড়া পাটজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য অতিরিক্ত নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ করা হয়েছে। যা আগে ১৫ শতাংশ ছিল। পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে (হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসি) ৫ শতাংশ ও পাটসুতায় (ইয়ার্ন ও টোয়াইন) ৩ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ৭ ও ৫ শতাংশ ছিল। চামড়াজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি খাতে রপ্তানি প্রণোদনা ১০ শতাংশ করা হয়েছে, আগে ছিল ১২ শতাংশ। হাতে তৈরি পণ্য হোগলা, খড়, আখের বা নারিকেলের ছোবড়া, গাছের পাতা বা খোল, গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় ইত্যাদি রপ্তানি খাতে রপ্তানি প্রণোদনা ৬ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮ শতাংশ। গরু মহিষের নাড়ি-ভুঁড়ি, শিং ও রগ রপ্তানির বিপরীতে রপ্তানি প্রণোদনা ৬ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮ শতাংশ। কৃষিপণ্য শাকসজি বা ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত (অ্যাগ্রোপ্রসেসিং) কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতে রপ্তানি প্রণোদনা ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা ছিল ১৫ শতাংশ। হালাল মাংস ও হালাল প্রক্রিয়াকৃত মাংসজাত পণ্য রপ্তানি খাতে রপ্তানি প্রণোদনা ১০ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ।
এ ছাড়া জাহাজ রপ্তানির বিপরীতে রপ্তানি প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ, আগে ছিল ৮ শতাংশ। পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড রপ্তানির বিপরীতে রপ্তানি প্রণোদনা ৮ শতাংশ, আগে ছিল ১০ শতাংশ, শস্য ও শাক সবজির বীজ রপ্তানির বিপরীতে ৮ শতাংশ, আগে ছিল ১০ শতাংশ। ফার্নিচার রপ্তানির বিপরীতে ৮ শতাংশ, আগে ছিল ১০ শতাংশ, প্লাস্টিক দ্রব্য রপ্তানির বিপরীতে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য সব খাতেই ভর্তুকি কমানো হয়েছে।
এর আগে নগদ সহায়তা কমিয়ে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হলে কোনো ধরনের নগদ সহায়তা দেওয়া যাবে না। উত্তোরণের পর সম্পূর্ণ নগদ সহায়তা একবারে প্রত্যাহার করলে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। ফলে বিভিন্ন খাতে নগদ সহায়তার হার অল্প করে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
