ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অসংখ্য মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্যের হাথরাস জেলায় ঘটা ওই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিন্দু দেবতা শিবের পূজা উপলক্ষে পুণ্যার্থীরা রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে হাথরাস সিকান্দারা রাউ শহরে ওই আয়োজনে সমবেত হয়েছিলেন। প্রচণ্ড গরমের মাঝে বিশেষভাবে তৈরি তাঁবুতে এক ধর্ম প্রচারক তার অনুগামীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই সময় ঘটে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি।
স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তীব্র গরমে অনুষ্ঠানস্থলে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে সমবেত পুণ্যার্থীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এ সময় পদদলিত হয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির আলিগড় রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল শলভ মাথুর বলেন, এটা ছিল ভোলে বাবা নামে এক ধর্ম প্রচারকের সৎসঙ্গ সভা। বিকেলে এটাহ ও হাথরাস জেলার সীমান্তে জমায়েত হওয়ার জন্য সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়। তীব্র গরম আর ভীড়ের কারণেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক আহত ব্যক্তি বলেন, ঘটনাস্থলে আসা ভক্তদের প্রচুর ভিড় ছিল। সবাই একে অপরের ওপর পড়তে থাকে এবং পদদলিত হতে থাকে। অনেকে অজ্ঞান হয়েও মারা যায়।
এদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই পদপিষ্টের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও শোকপ্রকাশ করেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী টিমও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
ভোলে বাবার প্রকৃত নাম নারায়ণ শঙ্কর হরি। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি উত্তর প্রদেশ পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের চাকরি ছেড়ে ধর্মীয় গুরু হয়ে যান। এরপর তিনি ভক্তদের প্রবচন দিতে শুরু করেন।
