মুদ্রানীতিতে এবারও বাড়ছে নীতি সুদহার

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:১৭ এএম

বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আগামী ১৮ জুলাই চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-জানুয়ারি) মুদ্রানীতি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রানীতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয়। থাকে প্রশ্নোত্তরের সুযোগ। বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিকদের পাশ কাটিয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে মুদ্রানীতি।

আগের বছরের মতো এবারও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবারও বাড়ছে নীতি সুদহার। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোতে বাড়বে ঋণের সুদহারও। তবে খেলাপি ঋণ কমাতে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ থাকবে কিনা, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন করার কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১৮ জুলাই বেলা ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকরা আগের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের দাবি জানায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক আগের মতো সাংবাদিক প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘোষিত মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। ওই মুদ্রানীতিতে সুদহার বৃদ্ধি, তারল্য প্রবাহ কমিয়ে আনা ও আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রভাব পড়েনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এবারের মুদ্রানীতিও একই ধাচের পদক্ষেপ থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মার্কিন ডলারের পাশাপাশি তারল্য সংকট, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা এবং সুশাসনের অভাবে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাংক খাত মোটাদাগে এই সবই হচ্ছে এখন দেশের আর্থিক খাতে প্রধান সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জ নিয়েই জুলাই মাসের ১৮ তারিখ নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতি সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি রেপো, রিভার্স রেপোর মতো মুদ্রানীতির মৌলিক সুদও বাড়তে পারে।

বিবিএসের তথ্য মতে, এখন মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ধারাবাহিকভাবে ঋণের সুদহার বাড়ানো হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ কম। ব্যাংক ঋণের সুদহার এরই মধ্যে ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর পরও নীতি সুদের হার বাড়িয়ে টাকাকে আরও দামি করে তোলা হতে পারে। এতে ঋণের সুদের হার আরও বাড়বে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও সুদহার বাড়ায় আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে পণ্যমূল্য আরও বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে।

এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়ার কথা বলে আরেক দফা নীতি সুদহার বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে তা ৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়। তার আগে যা ছিল ৬ শতাংশের ঘরে।

কয়েক বছর ধরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। আর অর্থনীতির ভিতকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল করছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্রমাগত ক্ষয়। এতে ডলার সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি আইএমএফ ও অন্যান্য সংস্থা থেকে ধারদেনা করে রিজার্ভ কিছুটা বাড়িয়েছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত