ইন্টারনেটের আসক্তি বর্তমান যুগের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, ইন্টারেনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার ব্যক্তিকে করে তুলছে বিষন্ন। এর উপায় হিসেবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট আসক্তি কমালে হ্রাস হবে বিষন্নতা।
ইন্টারনেট আসক্তির কারণে কিছু অত্যাবশ্যকীয় কাজে অবহেলা করেন কমবেশি সবাই। যার প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনের সর্বত্র। ফলাফল বিষণ্ণতা। যেমন- পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, শরীরচর্চা না করা, পরিবারের সঙ্গে সময় না কাটানো প্রভৃতি। ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে আমাদের লেখাপড়ার জন্য নির্ধারিত মূল্যবান সময় অনেকটাই অপচয় হয়। বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। এসব কিছুর ফলে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় ও বিষণ্ণতা জেঁকে বসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অত্যধিক ব্যবহারে আমাদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা মনোভাব গড়ে ওঠে। এর ফলে আমাদের যা আছে সেদিকের বদলে মনোযোগ চলে যায় কী নেই তার প্রতি। মনে সৃষ্টি হয় হতাশা। তৈরি হয় হীনম্মন্যতা।
ইন্টারনেট আসক্তি আমাদের মস্তিষ্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টার অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত হয়, যা আমাদের সুখী অনুভূতির জন্য প্রয়োজনীয় ডোপামিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে আমরা অল্পেই বিষণ্ণতা অনুভব করি।
এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ হলো ইন্টারনেট আসক্তি কমানো। এই আসক্তি কমানোর জন্য আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারি। ইন্টারনেট সম্পৃক্ত কাজগুলো সে সময়ের মধ্যেই শেষ করে খুব সহজেই প্রয়োজনীয় কাজ যেমন বই পড়া, শরীরচর্চা করা, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারকে সময় দেওয়া, বন্ধুদের সময় দেওয়া, সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রভৃতি করতে পারি।
মনোযোগ দিতে পারি সৃজনশীল কাজে। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, রান্না করা, বাগান করা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজ মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় ও বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট পুরোপুরি ত্যাগ করা সম্ভব নয়। এর পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে সুন্দর ও প্রশান্তিময় জীবন।
লেখক : শিক্ষার্থী
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
