ক্ষমতা হারানোর ভয়েই হিংস্র হামলা : ফখরুল

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৭:০৯ এএম

রাজপথে শিক্ষার্থীদের উত্তাল আন্দোলনে সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজপথের উত্তাল আন্দোলনে সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। সেজন্যই আন্দোলন দমাতে এখন রাষ্ট্রশক্তি নির্দয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোটা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডামি আওয়ামী সরকার ক্রমাগত প্রতারণা করে যাচ্ছে, কারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের পর চলতি বছর পুনরায় ভিন্ন কায়দায় কোটা পুনর্বহাল করলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী সরকার গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের ওপর যেভাবে স্টিমরোলার চালাচ্ছে, ঠিক একইভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীর চলমান আন্দোলন দমনের পন্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৈশাচিক হামলা চালিয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে আহত করেছে।’

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতা হারানোর ভয়েই এই হিংস্র হামলা। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে রক্তাক্ত পন্থায় দমনের যে দৃশ্য দেশবাসী অবলোকন করল তা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আরেকটি হিংস্র অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে সংযোজিত হবে। এদের হাতে জনগণ, রাষ্ট্র, সমাজ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কখনোই নিরাপদ নয়। পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরানোর বীরত্বে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আত্মহারা। দমনপীড়নের ভয়াবহ পন্থা অবলম্বন করে তারা দেশবাসীকে নিথর নিস্তব্ধ করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম আঘাত করতে যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ছাত্রলীগ গু-াদের লেলিয়ে দেয় তারা মানবতাবিরোধী ও মনুষ্যত্বহীন। দুর্নীতি ও হানাহানি যাদের অবলম্বন তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনেও শঙ্কিত হয়ে পড়ে। কারণ লুটপাটের ভাবধারায় চালিত সরকারের দ্বারা কখনোই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কোনো অংশেরই অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সম্মিলিত কণ্ঠের আওয়াজকে নিস্তব্ধ করতে তারা ভয়ংকর হিংস্রতার পথ বেছে নেয়।’

শিক্ষার্থীদের ওপর ‘এ ধরনের হামলাকে’ কাপুরুষোচিত ও ন্যক্কারজনক অভিহিত করে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এ ধরনের পৈশাচিক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের শাস্তি পেতেই হবে।’ তিনি আহত শিক্ষার্থীদের আশু সুস্থতা কামনার পাশাপাশি তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এদিকে গতকাল বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা সমস্যার সমাধান না করে সরকার দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে কোটা সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বহিরাগতরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

যুগপৎ আন্দোলন থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও গণ অধিকার পরিষদের (একাংশ) সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির নেতারা। বৈঠকে আগামী দিনের আন্দোলনের কৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত