কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অবরোধ কর্মসূচি ও সহিংসতার কারণে রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারির পর সহিংসতা থেমেছে। কারফিউর চতুর্থ দিনে গতকাল মঙ্গলবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। রাজধানীতেও বেড়েছে পণ্য সরবরাহ।
ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় পণ্যের যে ঘাটতি দেখা গিয়েছে, তা কাটতে শুরু করেছে। সরবরাহ সংকটের কারণে গত কয়েক দিনে পণ্যের দাম ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে যায়। সড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বাড়ছে। তাতে শাকসবজি, মাছ-মাংসের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুদিন আগে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সবজির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে করলা ও বরবটির মতো সবজি এখনো ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ-মাংসের চড়া ভাব কমতে শুরু করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সবজিসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এরপর কমপ্লিট শাটডাউন শুরু হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে ব্যাপক সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। নাশকতার আশঙ্কায় সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার ও উত্তর বাড্ডা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমে করলা-বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০, পটোল ৬০ থেকে ৭০, মরিচ ২৫০ থেকে ২৮০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০, কুমড়া ৪০, আলু ৬৫ থেকে ৭০ ও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সোলাইমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্দোলনের কয়েক দিন বাজারে সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের সবজির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। তবে গতকাল থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমে আসছে। কিছু কিছু সবজি এখনো ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সবজির মতো মাংসের বাজার ঘুরেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। দুদিন আগে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। একইভাবে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়। তবে আগের মতো চড়া দামে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।
উত্তর বাড্ডা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিমের দাম বাড়তি থাকলে কমতে শুরু করেছে মুরগি দাম। তাছাড়া বাজারে মুরগি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে আগে থেকে চড়ে থাকা মাছের দামও কমে এসেছে। কিন্তু আগের চড়া দামে ভোক্তাদের মাছ কিনতে দেখা যায়।
বাজারে প্রতি কেজি চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০, চাষের শিং ৪৫০ থেকে ৬০০, ছোট রুই ২৫০ থেকে ২৬০, কার্প জাতীয় মাছের কেজি ৩০০, পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০, সাগরের পোয়া কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৬৫০ ও প্রতি কেজি বাইলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়।
