রাজধানী এখন রিকশার দখলে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:০৩ এএম

কারফিউয়ে টানা চার দিন পর রাজধানী জুড়ে গণপরিবহন না থাকলেও রিকশার চলাচলের সংখ্যা বেড়েছে। ব্যাটারিচালিত যান থেকে শুরু করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, কাভার্ড ভ্যান চলতে দেখা যায় সড়কে। তবে আন্তঃজেলার কিছু বাস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটারিংয়ে সিটিতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন টার্মিনাল ও সিটির গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ দৃশ্য দেখা যায়। তবে আজ বুধবার সীমিত পরিসরে বিআরটিসির বাস চলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) কর্র্তৃপক্ষ। আর বাস মালিক সমিতি থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দেশ রপান্তরকে জানান সমিতির শীর্ষ নেতারা। তবে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।  

কয়েক দিন ধরেই চলমান পরিস্থিতিতে রাজধানী ছিল স্থবির। সিটির সঙ্গে সব জেলার গণপরিবহন ছিল বন্ধ। কিন্তু গতকাল থেকে মানুষের আনাগোনা আগের থেকে বেড়েছে। মানুষজন রিকশা ও সিএনজি, প্রাইভেট কার দিয়ে যাতায়াত করছে। সেই সঙ্গে কিছু আন্তঃজেলার বাস চলাচল করতে দেখা যায়। 

গতকাল পুরান ঢাকার বংশাল, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে স্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দেখা মেলে। কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারও দেখা গেছে সড়কে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মগবাজার থেকে ধানম-ি যাব। কিন্তু কোনো গণপরিবহন নেই। এখন বাধ্য হয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে। তবে ভাড়া বেশি চাচ্ছেন চালকরা।

পল্টন এলাকায় মো. রাকিব নামের এক যাত্রী মিরপুর যাওয়ার জন্য ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল বন্ধ, সেই সঙ্গে নেই গণপরবিহন। এই সুযোগে রিকশার চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। ১০০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা চাচ্ছেন। আর সিএনজিও রাস্তায়। যানজট নেই; তবুও তারা বেশি টাকা ভাড়া দাবি করছেন। যার জন্য অনেক সময় ধরে বসে আছি, কিন্তু যেতে পারছি না। এখন বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় যেতে হবে।’

জলিল মিয়া নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘রাস্তায় এ কয়দিন মানুষ একেবারেই ছিল না। আজ (মঙ্গলবার) সাধারণ মানুষের যাতায়াত আগের থেকে বেড়েছে। তা ছাড়া রিকশা নিয়ে না বের হলে তো আর সংসার চলবে না। তাই যত যা-ই হোক, আমাদের রিকশা নিয়ে বের হতেই হবে।’

এদিকে গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক রাখতে এখনই গণপরিবহনগুলো চালু করা দরকার। সাধারণ মানুষ জরুরি কাজে বাসা থেকে বের হয়ে বিপাকে পড়ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থবির হয়ে আছে। প্রয়োজনে নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটারিংয়ে বাসগুলো চালানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

কারফিউ যে সময় থাকবে না, তখন সীমিত পরিসরে বিআরটিসি বাস চলবে উল্লেখ করে বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে বিআরটিসি সব সময় মানুষের সেবার দিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তাই আগামীকাল (আজ) থেকে সীমিত পরিসরে বাস চলবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটারিংয়ে আন্তঃজেলার বাস কিছু চলাচল করেছে আজ (গতকাল)। তবে গণপরিবহন চালু নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। 

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএন ছিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল চলার কোনো প্রশ্নই আসে না। বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত