কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত ৭৯ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে অথবা আনার পর মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা। তারা জানান, ৬০ জন হাসপাতালে আনার পথে মারা যায়। বাকি ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুই মন্ত্রী। এর আগে তারা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তারা এসব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আন্দোলনের সময় চিকিৎসকরা কীভাবে সেবা দিয়েছেন, সে কথা শোনেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুর্বৃত্তরা অধিদপ্তরের পুরনো ভবনে হামলা চালায়। সেখানে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করে ও আগুন লাগিয়ে দেয়। হতাহতদের যেসব অ্যাম্বুলেন্সে করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেসব অ্যাম্বুলেন্সও ভাঙচুর করা হয়।
মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হামলার ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আসা-যাওয়ার পথে চিকিৎসকদের গাড়িও ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এমন অবস্থাতেও চিকিৎসকরা হাসপাতালে আসা আহতদের জরুরি অবস্থায় অস্ত্রোপচার করেছেন। একটানা দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক আহতের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে তাদের। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্টাফরা টানা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছে। সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। তিনি আহতদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রোকেয়া সুলতানা বলেন, সারা দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
দেশে কত মানুষ মারা গেছে সে পরিসংখ্যান এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পথে বা এসে ৭৯ জন মারা গেছে। তাদের ৬০ জনকে মৃত অবস্থায়ই আনা হয়েছিল। ১৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষে আহত ১ হাজার ২৭৬ জন আসে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ১০১ ও ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। তারপরও তাদের ওপর হামলা হয়েছে। অথচ পৃথিবীর সব জায়গায় চিকিৎসকরা হামলার আওতামুক্ত থাকে। যখন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসক পাঠানো হচ্ছিল, তখন হামলাকারীরা অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা চালিয়েছে। কভিড হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা।
