ক্রেতাদের সঙ্গে বসবেন পোশাক ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪, ১২:১১ এএম

দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তির একটি তৈরি পোশাক রপ্তানি। শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পোশাকের ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা যাওয়ার শঙ্কা করছেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার চেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে দেশের ‘ইমেজের’। এটি কাটিয়ে উঠতে বেগ পেতে হবে বলে মনে করেন তারা। এজন্য শিগগিরই পোশাকের ক্রেতাদের সঙ্গে বসবেন বিজিএমএইএ নেতারা।

বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রা আয়ের বড় অংশীদার পোশাক খাত। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে। বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতার কারণে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় গত ৫ দিনে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। টাকার অঙ্কের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দেশের ইমেজের। এটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সেটিই এখন বড় চিন্তার বিষয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কত এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি এসএম মান্নান কচি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমাদের ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। সে হিসেবে ৪ দিনে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনরা চার দিন কাজ করেননি, তাদের বেতন দিতে হবে। সেখানে রয়েছে এক হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষতি। এ ছাড়া সুতা ও বোতাম যারা দেন, তাদের ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।’

দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে জানিয়ে এসএম মান্নান কচি বলেন, ‘টাকার অঙ্কের চেয়েও আমাদের ইমেজের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। জ্বালাও-পোড়াও, মেট্রোরেলে ধ্বংসলীলাসহ এত হিংসাত্মক ঘটনার কারণে আমাদের ক্রেতারা অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে গেছেন। সারা বিশ্বে আমাদের শান্তিপূর্ণ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের যে ইমেজ ছিল, সেটি ক্ষুন্ন হয়েছে। এখন যত দিন না আমরা তাদের দেখাতে পারব যে সব স্বাভাবিক, তত দিন আমরা উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দু-এক দিনের মধ্যে বায়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বসব।’

রপ্তানিকারকরা বলছেন, কারখানা বন্ধ ও পোর্ট জটিলতায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। শিপমেন্টেও তাদের বাড়তি খরচ করতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কার্যাদেশ ধরার ক্ষেত্রে দেখা দেবে জটিলতা।

বুধবার রাজধানী ও গাজীপুরসহ অন্য জেলার কারখানাগুলো খুলে যায়। কারফিউ চললেও পোশাক খাতের কর্মীরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক, মিড লেভেল ব্যবস্থাপনা কর্মী এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কারখানার পরিচয়পত্রই কারফিউ পাস হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত