করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বছর জুড়ে বন্যা, তাপপ্রবাহ, পেনশন আন্দোলন, কোটা আন্দোলন, অবরোধসহ সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা আবারও থমকে গেছে। ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী। সেশনজটে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী।
চলমান পরিস্থিতি শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার কবে খুলবে তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই ক্ষতি অপূরণীয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি তাদের।
যদিও শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না।
কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-পলিটেকনিকসহ সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। একই সঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সব কলেজও বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্রাথমিক স্কুলও। কবে আবার খুলতে পারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
নানা কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার শুরু বছরের প্রথম থেকেই। জানুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন এবং শীতের ছুটিতেই কেটে যায় পুরো মাস। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বন্ধ থাকে দেশের বিভিন্ন জেলার স্কুল-কলেজ। ফেব্রুয়ারি মাসটা ঠিকভাবে চললেও মার্চ মাস থেকে ফের পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের দীর্ঘ ছুটিতে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব ছুটি শেষে গত ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও দেশ জুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে ২৮ এপ্রিল খুললেও প্রচণ্ড গরমে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। গরমে অসুস্থ হয়ে শিক্ষকসহ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনা হলে হাইকোর্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ কিংবা অনলাইন ক্লাসে চলে যায়। পরে ৪ মে থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়।
এরপর মে মাস পর্যন্ত শনিবারসহ খোলা রেখে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু মে মাস না যেতেই আবারও শুরু হয়ে যায় ছুটি। পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও শিক্ষকদের পেনশন আন্দোলনে অচলাবস্থা নেমে আসে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। পরে জুলাইয়ের শুরুতেই পেনশন এবং কোটা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পেলে পুরোপুরি স্থবিরতা নেমে আসে শিক্ষাব্যবস্থায়। এর মধ্যে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আসে বন্যা। এ সময় বন্ধ থাকে বিভিন্ন জেলার হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থগিত হয়ে যায় এইচএসসি পরীক্ষা।
তবে সবকিছু চাপিয়ে যায় কোটা আন্দোলন। ১ জুলাই থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। একপর্যায়ে ব্যাপক সংঘাতে শিক্ষার্থীসহ ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, আহত হয় কয়েক হাজার মানুষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর বাইরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে আরও প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। এভাবে টানা বন্ধের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় প্রায় সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই সেশনজট রয়েছে। এর মধ্যে বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষক সমিতির দ্বন্দ্বে মে মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। অন্তত ছয় মাসের সেশনজটে পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা। গত মে মাসের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাসেই শুরু করতে পারেনি।
এদিকে বন্যা এবং আন্দোলনের কারণে বারবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ফলে দেশের শিক্ষা খাতে শিডিউল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে হবে না কিংবা শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির সময় পাবেন না। এ ছাড়া এইচএসসি শেষে যারা দেশের বাইরে পড়তে যেতে ইচ্ছুক তারাও চলমান সেশন ধরতে পারবেন না। এ ছাড়া পেনশন আন্দোলনের কারণে জুলাই থেকেই তালা ঝুলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষ ও অফিসে। প্রশাসনিক ভবনেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে অনেকেই সনদ-সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ফিরে গেছেন। সনদ তুলতে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, সনদ তুলতে না পারায় অনেকেই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে পারছেন না। চাকরিতেও আবেদন করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভর্তি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখারই সুযোগ হয়নি নবীন শিক্ষার্থীদের। সর্বশেষ এমন অচলাবস্থা নেমে এসেছিল করোনার সময়। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকায় থমকে গিয়েছিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্দোলন এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে তারা। আন্দোলন শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফেরার পরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ফের এ নিয়ে আন্দোলন হতে পারে। তা ছাড়া শিক্ষকদের পেনশন আন্দোলনেরও কোনো সুরাহা হয়নি। আন্দোলনের শেষ ঘোষণা করেনি তারাও। ধারণা করা হচ্ছে, সবকিছু মিলে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বস্তি মিলতে অন্তত আরও এক মাস সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা ক্লাস, পরীক্ষাগুলোর ক্ষতি পোষাতে নিতে হবে বিশেষ পরিকল্পনা। নতুন করে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। এ ছাড়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা কখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরবেন, তারা কখন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হবেন এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে কোটা আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা কাটিতে উঠতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া সঠিক সময়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে না পারার কারণে বেকারত্বও বাড়তে পারে বলে মনে করেন অনেকেই।
শিক্ষাবিদরা যা বলছেন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার পর আমরা সবাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু বন্যা, আন্দোলনসহ নানা কারণে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক হচ্ছে আমরা বারবার বাধ্য হচ্ছি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীরা ক্লাসই শুরু করতে পারেননি। সব মিলিয়ে বড় ধরনের সংকটে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা। আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বড় একটা মানসিক ট্রমা। এখান থেকে বের হওয়াও সহজ না। সঠিক সময়ে পাস করে বের হতে না পারার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সংকট কাটানোর কোনো পথ নেই। যতক্ষণ না আমরা এর শিক্ষা নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে না সাজাই। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিকল্পনা খুব জরুরি। তাহলে হয়তো সংকট কাটানো সম্ভব। কিন্তু যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতিহিংসা এবং বিরোধী মত দমনের চেষ্টা অব্যাহত রাখি, তাহলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। দলীয় পরিচয় দিয়ে এই সার্বিক সংকট কাটানো সম্ভব না। সবার আগে নিরূপণ করা উচিত যে আমরা কোন বাংলাদেশ চাই এবং সেভাবেই রাজনীতির বাইরে গিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজাতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতির মেরুদণ্ডে বড় ধরনের একটা ধাক্কা লাগল। এই ধাক্কাটা কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে, দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা উচিত। এভাবে দেশের শিক্ষা খাত চলতে পারে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী তথা শিক্ষার পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। দ্রুত কীভাবে পুরোদমে সবকিছু শুরু করা যায়, সে ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনার সময়ও কোনো না কোনোভাবে শিক্ষাকার্যক্রম চালু ছিল। বর্তমানে সে পরিস্থিতিও নেই। পেনশন ও কোটা আন্দোলনের ফলে শিক্ষার এই ক্ষতিটা অপূরণীয়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বাড়তি ক্লাস নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রচেষ্টা থাকতে হবে। প্রয়োজনে ছুটি কমানো যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া হবে, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারছি না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ নয়, আমাদের তো বিদ্যালয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হয়। আমরা পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণ করছি।’
চলমান এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা সরকারের মূল অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন প্রথম যে অগ্রাধিকার সেটি হচ্ছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাটি পুনরায় যাতে শুরু করা যেতে পারে, সেজন্য পরিস্থিতি এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
