পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান মসজিদে হারাম। এখানে মহান আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা অবস্থিত। এ কাবাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমান দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায় করেন। হজ মৌসুমসহ সারা বছর লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র এ ঘরের জিয়ারত করেন। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর পবিত্র এ ঘরের মেহমানদের সেবা করতে পারা অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার।
প্রায় দুই দশক ধরে মসজিদে হারামে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার সৌভাগ্যবান এক দম্পতি। পবিত্র এ মসজিদে আগত হজ ও ওমরাহযাত্রী এবং মুসল্লিদের সেবায় তারা কাজ করছেন। সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের তত্ত্বাবধানে ১৪ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীলঙ্কান দম্পতি আশরাফ ও ফাতেমা। ইসলামের এ পণ্যভূমিতে দীর্ঘকাল সেবা দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।
মক্কার মসজিদে হারামে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ এ সময়ে নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তারা। জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি একটি উত্তম কাজের সুযোগ পাওয়ায় তারা মহান আল্লাহর প্রশংসা করেন।
সম্মানিত এ স্থানে আসার গল্প শুরু হয় প্রায় বিশ বছর আগে। তখন ফাতেমা মসজিদে হারামে কাজের সুযোগ পান। তিনি নারীদের নামাজের স্থানে কাজ করতেন। সেখানে ছড়িয়ে থাকা জায়নামাজগুলো গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব ছিল তার।
কয়েক বছর পর তিনি নিজের স্বামীকেও মসজিদে হারামের দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। প্রেসিডেন্সি বিভাগ তার আবেদনকে অনুমোদন দেয়।
ফাতেমা জানান, মসজিদে হারামে তিনি চার বছর একাকী দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন জানান, যেন তার স্বামী আশরাফকে হারামাইনের কর্মী হিসেবে আনা হয়। এদিকে এতদিন ধরে শ্রীলঙ্কায় কাজ করতেন আশরাফ।
প্রথম পর্যায়ে অনিচ্ছুক থাকলেও পরবর্তী সময়ে মক্কায় চলে আসেন আশরাফ। পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে এখন মুসল্লিদের সেবা দিয়ে আনন্দবোধ করছেন তিনি।
আশরাফ বলেন, ‘মসজিদে হারামে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। ফাতেমা ও আমি একসঙ্গে কাজ করি এবং একে অপরকে সহযোগিতা করি। প্রতি সপ্তাহে আমরা ওমরাহ পালন করি।’
পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ও পবিত্র স্থানে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি তাদের জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। মসজিদে হারামে কাজ করতে পেরে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কার এ দম্পতি।
সূত্র : সৌদি গেজেট
