সংঘর্ষ আগুন ভাঙচুর নিহত ১ আহত ২৭০

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০২:৩০ এএম

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি ঘিরে গতকাল শনিবারও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল দিনভর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এই কর্মসূচি চলাকালে কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আবার কোথাও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বেশ কয়েকটি জায়গায় আন্দোলনকারীদের পরিচয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের মেয়রের বাড়িতে হামলা এবং এক সংসদ সদস্যের (এমপি) কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হামলা হয় চট্টগ্রামের চার বিএনপি নেতার বাসায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গতকাল ৩৫ জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জেলায় সংঘর্ষ-সহিংসতায় একজন নিহত ও অন্তত ২৭০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘিরে গতকাল একজন নিহত হওয়া ছাড়াও এর আগের সহিংসতায় আহত চিকিৎসাধীন একজন গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতায় ১৬৩ জন নিহত হলো।

এদিকে গতকাল দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

রাজধানীসহ সারা দেশে গত শুক্রবারের ‘শান্তিপূর্ণ গণমিছিলে হামলা, খুন’ ও ৯ দফা দাবিতে গতকাল সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক। এ ছাড়া আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দেন তারা। গতকালের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ৯ দফা থেকে সরে এসে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক।

চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রী, মেয়রের বাড়িতে হামলা, এমপির অফিসে আগুন : ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরাও। বেলা ৩টা থেকে মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয় নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকা। দুপুর ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ডভাবে নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন। সমাবেশের পরিধি বিস্তৃত হয় কোতোয়ালি, রিয়াজউদ্দিন বাজার, স্টেশন রোড, জুবিলী রোড এবং সিটি কলেজ অভিমুখী সড়কে। এতে নিউমার্কেট অভিমুখী ব্যস্ততম চার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিল বহদ্দারহাট এলাকায় পৌঁছালে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছোড়ে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক গুলিবিদ্ধ চারজনকে হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নগরীর চশমা হিল এলাকায় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ও বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর দামপাড়া ওয়াসার মোড়ে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ অংশগ্রহণকারীদের মিছিল থেকে এসব হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রাহুল দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভেতর মিশে থাকা বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ৭০-৮০ জনের একটি দল মন্ত্রীর বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাড়ির ভেতর থাকা দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও মন্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন দেয়।’ এ ঘটনাকে নজিরবিহীন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে কোনো রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে এ ধরনের হামলার অতীত কোনো রেকর্ড নেই।

অন্যদিকে রাত পৌনে ৮টার দিকে মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এম রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়িতে হামলা হয়। মেয়রের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা দুলাল চৌধুরী বলেন, ‘একদল দুর্বৃত্ত মেয়রের বাড়ির গেটে হামলা চালিয়ে গেট ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তা প্রতিহত করে। এ সময় মেয়র বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই হামলার সময় সেখানে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় সেখানে আবদুস সাত্তার নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

জানা গেছে, গতকাল দিনভর নিউমার্কেট মোড়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে বিক্ষোভ হয়। বিকেলে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা লালখান বাজার, ওয়াসা, জিইসি হয়ে দুই নম্বর গেটে যায়। সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ চশমা হিলে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়। এর আগে আন্দোলনকারীরা টাইগারপাস এলাকায় পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও ওয়াসার মোড় এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর অফিসে অগ্নিসংযোগ করে।

এই তিন আওয়ামী লীগ নেতার বাসা ও কার্যালয়ে হামলার ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ নেতারা। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে পাল্টা হামলার ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত ও শিবির চক্রের পরিকল্পিত, ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক হামলা ও নাশকতায় সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে। আমরা এত দিন সংযত আচরণ করেছি। এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের সময় এসেছে।’

এ ঘোষণার পর রাতেই চট্টগ্রামে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, নগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনসহ চার নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বিএনপি নেতাদের দাবি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা এসব হামলায় জড়িত।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ইদ্রিস আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের বাদশা মিয়া রোডের বাসভবনে হামলা চালায় এবং নিচে পার্কিংয়ে থাকা অন্তত সাত থেকে আটটি গাড়িতে আগুন দেয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচলাইশে মেডিকেলের পূর্বগেটে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাসভবনে ও পৌনে ৯টায় মেহেদীবাগে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসভবনে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে ব্যবসায়ী নিহত : গাজীপুরের শ্রীপুরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ৪টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় দফায় দফায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে চলে সংঘর্ষ। মাওনা এলাকা যেন রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। গতকাল বেলা ১১টা থেকে শ্রীপুরের ব্যস্ততম মাওনা চৌরাস্তা এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক আহত হয়।

শ্রীপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে চন্নাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তিনি চন্নাপাড়া গ্রামের মো. কাজল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই গ্রামের মক্কা-মদিনা স্পিনিং কারখানার সামনে তার লেপ-তোশক তৈরির দোকান রয়েছে।

বেলা ২টার দিকে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আহত হওয়ার পর শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় জাহাঙ্গীরকে। পরে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চাচাতো ভাই কাজল মিয়া। নিহত জাহাঙ্গীরের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান কাজল।

শ্রীপুর থানার ওসি আকবর আলী খান বলেন, ‘রাস্তায় পড়ে গিয়ে ওই ব্যক্তির (জাহাঙ্গীর আলম) মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা ব্যস্ত আছি।’

এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গতকাল সকাল থেকে আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর দুটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন পরিবহনশ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীরা।

কুমিল্লায় আন্দোলনকারী-আ.লীগ সংঘর্ষে আহত ৩০ : কুমিল্লায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে নগরীর পুলিশ লাইনস ও রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে ভাঙচুর ও পরে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে নগরীর জিলা স্কুলের ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। অন্যদিকে নিউমার্কেট ও কুমিল্লা ঈদগাহ মোড়ে অবস্থান নেয় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান করলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর পুলিশ লাইনস এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে গুলি ও ককটেল ছোড়া হয়। এতে ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মিতুল, কুমিল্লা সরকারি কলেজের আসিফ, সৌরভসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পুলিশ লাইনসের ভেতর ও আশপাশের বিভিন্ন বাসায় অবস্থান নেয়।

আরও ১০ জেলায় হামলা-সংঘর্ষ : টাঙ্গাইলের সখীপুরে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার শৌখিন মোড়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকে। পরে তারা মোখতার ফোয়ারা চত্বর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ গেটে গিয়ে অবস্থান নেয়। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে পুনরায় তারা মিছিল নিয়ে মোখতার ফোয়ারা চত্বরের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একই সঙ্গে মোখতার ফোয়ারা চত্বরের দিক থেকে উপজেলা পরিষদ গেটের দিকে ছাত্রলীগের বেশ কিছু কর্মী ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে।

জামালপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনেক অভিভাবক অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ককটেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় পথচারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করতে দেখা গেছে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে। বেলা ৩টার দিকে পৌর শহরের নতুন হাইস্কুল মোড় (জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই নেতার নাম শাহরিয়া ইসলাম রাফি ও নাফিজুর রহমান তুষার। এর মধ্যে রাফি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। আর তুষার ছাত্রলীগের কর্মী।

রাজশাহীতে সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে অংশ নেন রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক গোয়েন্দা সদস্যকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। আহতের নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি সিটিএসবিতে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নগরীর রেলগেট পর্যন্ত যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীরা তিনটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স, একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়, একটি রেলওয়ে গার্ড বক্স, একটি রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কার্যালয় এবং বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে।

নোয়াখালীতে আন্দোলনকারীদের মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

সিলেটে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিছিল, স্লোগান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উত্তাল ছিল নগরী। মার্কেট, দোকানপাট খুললেও ভয়ে কিছুক্ষণ পরপর তা বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। নগরীতে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। নগরের চৌহাট্টা, দরগাগেইট, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি পুলিশের হামলায় শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। একাধিক স্থানে আন্দোলনকারীরা সড়কে আগুন জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ করেন। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় শিক্ষার্থী, পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারীসহ অনেকে আহত হয়েছেন। 

ফরিদপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং শ্রমিক লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও গুলি ছোড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। গোয়েন্দা পুলিশের এক নারী সদস্যসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বরিশালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা ফেরার পথে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) গাড়ি ও পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে। এতে ৪ এপিবিএন সদস্য আহত হন। বেলা আড়াইটার দিকে মহাসড়কের হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন ছাত্র আন্দোলনের একাধিক সংগঠক। তাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বগুড়া শহরের সাতমাথায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাতমাথার আশপাশে বঙ্গবন্ধুর চারটি ম্যুরাল ভাঙচুর এবং পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়। বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়ায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় দুজন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশ। বিকেলে সদর উপজেলার মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সাত জেলায় মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি : ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন তারা। তবে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবার বাহনগুলো অবরোধের আওতামুক্ত ছিল। পরে বেলা ২টায় অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। তখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধ কর্মসূচিতে সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ঢাকার ধামরাইয়েও বেলা ১১টার দিকে ঢুলিভিটা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অভিভাবকরাও অংশ নেন আন্দোলনে। এতে মহাসড়কের উভয় লেনে অন্তত পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে বিকেল ৪টায় সড়কে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে সড়ক থেকে সরে গেলে পৌনে এক ঘণ্টা বন্ধের পর বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়।

পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীরা। এতে দুই পাশে আটকা পড়ে বহু যানবাহন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বাতেন খাঁর মোড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় মহাসড়কের দুই ধারে আটকা পড়ে বেশ কিছু যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিশ্বরোড মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে আন্দোলনকারীরা। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা  মহাসড়কে অবস্থান করায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

নরসিংদীতে বেলা ৩টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর জেলখানার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে আন্দোলনকারীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই অবরোধ।

লক্ষ্মীপুরে লাঠি হাতে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। বেলা ১১টা থেকে সড়কে অবস্থান নেয় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া খুলনা, ঝিনাইদহ, জয়পুরহাট, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, বরগুনা, পটুয়াখালী, রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জে বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে। এসব জায়গায় কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি।     

ক্যাম্পাসের দখল নিল ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা : বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জমায়েত হয় টাঙ্গাইলের ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী। পরে প্রক্টর এসে শিক্ষার্থীদের জানান রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়া হল খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গেটের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

বিএনপি মহাসচিবের নিন্দা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ গণমিছিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নিরীহ ছাত্রছাত্রীসহ অসংখ্য মানুষকে আহত করে। ছাত্রীসহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। আওয়ামী লীগ তাদের নারী কর্মীদের আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর নির্লজ্জভাবে লেলিয়ে দিয়েছে। আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সরকার দেশকে চরম সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তা দমানো যাবে না।’

গুলিবিদ্ধ আরও একজনের মৃত্যু : কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে রাজধানীর ভাটারা থানার নতুনবাজার এলাকায় গুলিতে আহত হওয়া চিকিৎসাধীন ইমন (১৭) নামে এক কিশোর মারা গেছে। গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় তার। নিহত ইমন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চোনপুর গ্রামের সেলিম আলীর ছেলে। নতুনবাজার এলাকার একটি খাবারের হোটেলে চাকরি করত সে। সেখানেই থাকত। বোন তাহমিনা জানান, গত ১৯ জুলাই দুপুরে নতুনবাজারে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংর্ঘষ চলছিল। এ সময় হোটেলের সামনে ইমন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে ওইদিনই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরাও। বেলা ৩টা থেকে মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয় নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকা। দুপুর ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ডভাবে নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন। সমাবেশের পরিধি বিস্তৃত হয় কোতোয়ালি, রিয়াজউদ্দিন বাজার, স্টেশন রোড, জুবিলী রোড এবং সিটি কলেজ অভিমুখী সড়কে। এতে নিউমার্কেট অভিমুখী ব্যস্ততম চার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত