আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছে, সম্পদের অহংকারে যাদের পা মাটিতে পড়ে না। নিজেকে খুব বেশি জ্ঞানী ভাবে। অন্যদের পাত্তাই দেয় না। অন্যকে কথাই বলতে দেয় না। নিজে যেন সবজান্তা। তাদের সব কিছুতেই ‘আমি’ আর ‘আমি’। তাদের কাছে অন্যরা তুচ্ছ ও নগণ্য। তারা আত্ম-অহংকার ও আত্ম-অহমিকায় ডুবে গেছে। কখনো কি তারা ভেবে দেখে, এই আমিত্বের পরিণাম কী? এই আমার আমিই তো আমি নই! মৃত্যুর ডাক এলেই চলে যেতে হবে। সব কিছু পড়ে থাকবে। তাহলে কেন মিছে এই অহংকার এবং কেন এই আমিত্বের দাপট? কেন আত্মমগ্নতায় ডুবে থাকা? আমিত্বের জালে জড়ানো এক ধরনের ব্যাধি। যা নম্রতা ও বিনয়ের বিপরীত। ইসলাম নম্রতা পছন্দ করে। রাসুল (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বিনয় ও নম্রতার অধিকারী। অথচ আমরা রাসুল (সা.)-এর আদশের্র অনুসরণে নেই।
আত্মপ্রশংসা মহান আল্লাহর আদেশের বিপরীত কাজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আত্মপ্রশংসা কোরো না। তিনিই ভালো জানেন কে আল্লাহভীরু।’ (সুরা নাজম ৩২) রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা পরস্পর প্রশংসা করা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তা হচ্ছে জবাই করা। (সুনানে ইবনে মাজাহ) নিজের প্রশংসা নির্লজ্জরাই বেশি করে। বুদ্ধিমানরা প্রশংসা করে এক আল্লাহর। প্রশংসার আসল মালিক এক আল্লাহ। যা নিয়ে আমিত্বের বড়াই, তা কিন্তু চলে যেতে সময় লাগে না একটুও। সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে চলে যেতে পারে। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে রইলেন। হাত-পা অবশ। কখন প্রাকৃতিক কাজ হয়ে যায় বলতেই পারেন না। কথা বলার শক্তি নেই। জ্ঞানের বড়াই থাকল কোথায়? আমিত্ব তো চলেই গেল। তাই নয় কি?
পৃথিবীর সব কিছুর মালিকানা এক আল্লাহর। কিছু জিনিস আল্লাহ আমাদের সীমিত সময়ের জন্য দেন। অথচ এটাকেই যেন মূর্খের দল স্থায়ী মালিকানা ভেবে বসে। ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, দুনিয়াতে সবচেয়ে বোকা ও নির্বোধ সে, যে নিজের পবিত্রতা দাবি করে এবং নিজেই নিজের প্রশংসা করে।’
