৫ জনকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৪, ০৩:৩৫ এএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সাইদুল ইসলাম ইয়াসিন (১৯), সাঈদ আরাফাত শরীফ (২০) ও অজ্ঞাত (২৫) পরিচয় এক ব্যক্তি। অপরদিকে গতকাল সকালে ওয়ারী হাটখোলা এলাকায় ফ্ল্যাট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধে আলামিন ভূঁইয়াকে (৪২) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর তার ভাই নুরুল আমিনকেও (৩২) হত্যা করা হয়।

নিহত ইয়াসিনের বাবার নাম সাখাওয়াত হোসেন। তারা যাত্রাবাড়ীর ধলপুর বউবাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ইয়াসিন কুতুবখালী এলাকার একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন। অন্যদিকে সাঈদ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কদমীরচর গ্রামের কবির হোসেনের সন্তান। যাত্রাবাড়ীর টনি টাওয়ার এলাকায় থাকতেন তিনি। এ ছাড়া ওয়ারীতে নিহত আল আমিন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। আল আমিনের ছোট ভাই নুরুল আমিন মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করতেন। তারা ওয়ারীর একেএম সাহা লেনে থাকতেন। তাদের বাবার নাম মৃত শামসুদ্দিন।

নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, সায়েদাবাদ থেকে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হন তিনজন। তাদের ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে ওয়ারীতে ফ্ল্যাট কেনাবেচা নিয়ে মারধর করা দুই ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ইয়াসিনের মা শিল্পী আক্তার বলেন, ‘ইয়াসিন ১৫ দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে আসছিল। গত মঙ্গলবার সকালে সে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর বউবাজারের বাসা থেকে বের হয়। এরপর অনেকবার ফোনে কথা হয়েছে। গতকাল ভোর ৪টার দিকেও তার সঙ্গে কথা হয়। তখনো সে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল। সকালে কেউ একজন ফোন দিয়ে জানান আপনার ছেলের অবস্থা ভালো না, দ্রুত যাত্রাবাড়ী থানায় আসেন। সঙ্গে সঙ্গে থানায় গিয়ে ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘থানা থেকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও আমার ছেলে কথা বলছিল। বলছিল ওদের মিথ্যা অভিযোগে মারধর করা হয়েছে। ওরা কোনো অপরাধ করেনি। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

ওই তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা স্কাউট দলের সদস্য সম্রাট শেখ বলেন, সায়েদাবাদে গণধর্ষণের অভিযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এই তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় রেখে যান। তাদের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহত আল আমিন ভূঁইয়ার স্ত্রী মুনমুন ভূঁইয়া বলেন, ‘দেড় বছর আগে রিপন নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলাম আমরা। ফ্ল্যাট রেডি হলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে রিপন তার লোকজন নিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করে।’

এর কয়েক ঘণ্টা পরই আল আমিনের ভাই নুরুল আমিনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার শ্যালক জোবায়ের হোসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, একই ব্যক্তিদের মারধরে তারা দুই ভাই নিহত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত