ফ্যাশন ধারায় শর্ট মিডি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৪, ১১:০৩ এএম

আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে বৈচিত্র্য দেখা যায় পোশাকের ধরন-ধারণে। শরতের ফ্যাশনে গরম ও বৃষ্টির বিষয়টাকে মাথায় রেখে পোশাকের ফেব্রিকস ও কাটিং প্যাটার্নে গুরুত্ব দিয়েছেন ডিজাইনাররা। এবার পোশাক ট্রেন্ডে যুক্ত হয়েছে শর্ট মিডি। ফেব্রিকস হিসেবে সুতি, লিলেন, নেটকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যা বেশ আরামদায়ক, সেই সঙ্গে ফ্যাশনেবল। বলা যায় শর্ট মিডি অনেকটা ফ্রক বা রাউন্ড টপসের আধুনিক প্যাটার্ন। লিখেছেন নাহার সুলতানা

প্রকৃত অর্থে শর্ট মিডি হলো অনেকটা ফ্রক ধরনের পোশাক। এই পোশাক নী লেন্থ বা তার থেকেও অল্প ঝুল। গাউনের থেকে এর ঘের একটু বেশি থাকে। ওপরের অংশটা বডিফিটিং। কোনো কোনো শর্ট মিডির কোমরে কুচি দেওয়া ফ্লিল বা ইলাস্টিক থাকে। হালের শর্ট মিডি নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার রিমা নাজ বলেন, ‘শর্ট মিডি ফ্যাশন ট্রেন্ডে বর্তমান সময়ে নতুন নাম। সাধারণত এই পোশাক কাঁধ থেকে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা হয়। এ ছাড়া এই পোশাক বেশ ঢিলেঢালা হয়ে থাকে। ফলে অন্যান্য পোশাক থেকে এই পোশাক তুলনামূলক আরামদায়ক। পোশাকটা এমন যে, এর সঙ্গে থ্রি কোয়ার্টার বা লেগিন্স পরা যায়।

ডিজাইন বৈচিত্র্য

পোশাকের বিশেষত্ব হলো এক ধরনের ফেব্রিকস দিয়ে তৈরি। কোমরে অনেক কুচি থাকে। শর্ট মিডির ধরন নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার তাসমিত আফিয়াত আর্নি জানান, ‘অনেক শর্ট মিডির নকশা করেছি। এই পোশাকের দুটি অংশ রেখেছে। নিচের টপটি ভারী ফেব্রিকসের লিলেন ও ডাবল জর্জেট ব্যবহার করেছি। আর ওপরের টপে পাতলা নেট ব্যবহারের জন্য নিয়েছি। সেই সঙ্গে ওপরের টপে প্যাঁচের কারুকাজ ও এর নকশা করেছি। এ ছাড়া আবহাওয়া ভ্যাপসা গরম হওয়ায় রঙের ক্ষেত্রে হালকা রঙ ও ফ্লোরাল মোটিফকে প্রাধান্য দিয়েছি। ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুই ধরনেরই শর্ট মিডি রয়েছে। যা আপনি ঘরে, পার্টি, ক্লাস এমনকি কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের ধরন বুঝে পরতে পারবেন।’

শর্ট মিডি পোশাকে ভেতরের টপটি যদি ভারী ফেব্রিকসের হয় তাহলে ওপরের টপটি পাতলা হবে অথবা ওপরের টপে যদি ভারী কারুকাজ বা ফেব্রিকস হয় তাহলে ভেতরের টপটি পাতলা হবে। কখনো কখনো একই ফ্রেবিকসের হতে পারে। সেই সঙ্গে ওপরের ও ভেতরের টপ সম্পূর্ণ আলাদা করেও তৈরি করা যায়। শর্ট মিডি নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিন আফরিন জানালেন, ‘শর্ট মিডি আমাদের ফ্যাশন ট্রেন্ডে নতুন কিছু নয়, তবে ওয়েস্টার্ন প্যার্টানের টপের সঙ্গে মিলিয়ে এর নতুন ফিউশন করা হয়েছে। সমসাময়িক ট্রেন্ডে চলছে সেমি লংয়ের পোশাকগুলো। তাই শর্ট মিডি বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এটি মূলত ওয়েস্টার্ন ও ইস্টার্নের সংযোগ বলা যেতে পারে। আবহাওয়া অনুযায়ী এ সময় ফ্লোরাল ও চেক ফেব্রিকসে পাওয়া যাচ্ছে শপিংমলগুলোতে। গরমে স্বস্তি পেতে মেয়েদের জন্য কটন বা লিলেন কাপড়ের শর্ট মিডি বেশ উপযোগী হবে।

ফেব্রিকস ও কাটিং প্যাটার্ন

এ ধরনের পোশাকে যেমন ভারী ফেব্রিকসের ব্যবহার দেখা যায় না। সুতি, লিলেন, রায়ন ও এ-ি কাপড়েরও শর্ট মিডি রয়েছে। বৃষ্টিতে দিনের বেলায় সুতি, নেট বা লিলেন কাপড়ের শর্ট মিডি পরলে ভালো হয় এতে এই গরমে বেশ স্বস্তি পাবেন। এই সময়ের পোশাকে বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায় পোশাকের কাটিংয়ে। শর্ট মিডি ট্রেন্ডি কিছু কাটিংও রয়েছে। এই ড্রেসের গলার কাটিংয়ে বোট নেক, হাই নেক ও রাউন্ড নেক, এমনকি শার্ট কলারও দেখা যায়। তবে ওপরের টপে যদি গলাবন্ধ কাট থাকে সে ক্ষেত্রে ভেতরের টপের গলার কাট খোলামেলা থাকবে। এ ছাড়া এই পোশাকের ভেতরের টপের হাতা সিøভলেস হলে ওপরের টপটি ফুলহাতা, হাফহাতা, থি কোয়ার্টার বা মাইক হাতা হবে। অর্থাৎ অপজিট হাতা হবে।

রঙ ও প্রিন্ট

এ ধরনের পোশাক গাঢ় ও হালকা দুটো রঙের হয়ে থাকে। সাধারণত রাতের কালারফুল কোনো অনুষ্ঠানে গাঢ় রঙের শর্ট মিডি পরলে ভালো, যা আপনার মধ্যে জমকালো ভাব নিয়ে আসবে। এ ছাড়া দিনের বেলায় যেহেতু কড়া রোদ সেই সঙ্গে বৃষ্টি থাকে তাহলে রঙের শর্ট মিডি পরলে ভালো হবে। আরাম পাওয়া যাবে। প্রিন্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের পোশাকে বেশি দেখা যায় ফ্লোরাল প্রিন্ট। কারণ ফ্যাশন ট্রেন্ডে ফ্লোরাল প্রিন্ট বেশি চলছে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ একরঙা প্লেইন শর্ট মিডি পাশাপাশি স্ট্রাইপ, স্নেকপ্রিন্ট, মাল্টিকালার প্রিন্ট, ডট প্রিন্ট, বল প্রিন্ট, ওমেন প্রিন্টসহ নানা প্যাটার্নের শর্ট মিডি পাওয়া যায়।

 কোথায় পাবেন

মেয়েদের শর্ট মিডি পাবেন নামকরা সব ব্র্যান্ডগুলো থেকে শুরু করে নন-ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেও। তবে সব থেকে ভালো হয় আপনি ফ্যাশন হাউজ বা অনলাইন পেজ থেকে কিনলে। এ ছাড়া এদের ফেসবুক পেজ থেকেও আপনি শর্ট মিডি অর্ডার করে কিনতে পারবেন। এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের শর্ট মিডি পাবেন। যার মূল্য সর্বনিম্ন ৬০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা, পিংক সিটিসহ দেশের শপিংমলগুলোতে পেয়ে যাবেন এই শর্ট মিডি। একটু কম দামে এই ড্রেস পাবেন নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও নুরজাহান মার্কেটে।

ফেব্রিকসের মান ও পোশাকের কারুকাজ অনুযায়ী এর দাম নির্ভর করে। আর নিজে যদি কাপড় কিনে বানাতে চান সে ক্ষেত্রে নিচের অংশের জন্য আড়াই হাত বহরের সাড়ে তিন গজ কাপড় কিনে তৈরি করতে পারেন। যদি নকশা করতে চান তবে লেইস ও আর্টিফিশিয়াল বোতাম লাগিয়ে নিতে পারেন।

ব্যস্ততম সময় সালোয়ার-কামিজের ঝামেলায় না গিয়ে এই পোশাক বেছে নিচ্ছেন ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারীরা। কেননা এই পোশাক অন্যান্য পোশাকের তুলনায় সহজে পরিধানযোগ্য, আরামদায়ক সেই সঙ্গে ফ্যাশনেবল। শর্ট মিডির সঙ্গে একদিকে যেমন স্টিলেটো পরা যাবে আবার স্নিকার্সও পরতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত