নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস গ্রহণ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ১২:২৮ এএম

অক্সিজেন গ্রহণের জন্য আমাদের নাক ও মুখ রয়েছে। যার মাধ্যমে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। স্বাভাবিকভাবে এই দুই পথেই আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারি, কিন্তু কোনো কারণে যদি নাক বন্ধ হয়ে শুধু মুখ দিয়ে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে হয়, তবে সেখান থেকে নানা জটিলতা হতে পারে।

মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে সহজভাবে বলতে গেলে নাকের পথ কোনো কারণে বন্ধ হলেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া শুরু হয়, যেমন:

অ্যালার্জি, সর্দি বা সাইনাসের সংক্রমণ, জ¦র অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি ফুলে গেলে টনসিলে প্রদাহ,

নাকের মধ্যকার হাড়ের অস্বাভাবিকতা নাকের আস্তরণে কোনো বাধা যেমন পলিপস বা টিস্যুগুলোর বৃদ্ধি, টিউমার

নাকের অস্বাভাবিক গঠন

অনেকে নাকের পথ খোলা

থাকলেও মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে যেমন স্লিপ অ্যাপনিয়াতে আক্রান্ত হলে। স্ট্রেস এবং উদ্বেগজনিত কারণেও নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে দেখা যায়। মানসিক চাপেও অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সূচনা হতে পারে।

নাক দিয়ে নিঃশ্বাসের উপকারিতা :

প্রতিনিয়ত শ্বাস নিতে নাক কাজ করে যাচ্ছে বলে এর গুরুত্ব আমরা বুঝি না, কোনো কারণে নাক বন্ধ হলেই হয়তো বুঝি কতটা কষ্ট হয় যেমন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত, ঘুমের ব্যাঘাত, অস্বস্তি।

নাক নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে, যা ফুসফুসের অক্সিজেন শোষণ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ও হার্টসহ সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

নাক বাইরের ক্ষতিকর পদার্থের বিরুদ্ধে ফিল্টার হিসেবে কাজ করে ও ফুসফুসের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

ফুসফুসে যাওয়ার আগে শরীরের তাপমাত্রায় শীতল বাতাসকে উষ্ণ করে তোলে।

সুতরাং নাক দিয়ে বাতাস ঢোকার পথকে স্বাভাবিক রাখতে হবে।

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার লক্ষণ :

বেশিরভাগ সময়ে অনেকেই বোঝে না যে, তিনি নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়, বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে।

তারপরও যে লক্ষণ প্রকাশ পায় :

ঘুমের মধ্যে লালা পড়া ও  মুখ শুকিয়ে থাকা, মুখে দুর্গন্ধ, নাক ডাকা, অল্পতে ক্লান্তি এবং বিরক্তি, খিটখিটে মেজাজ, মস্তিষ্কে চাপ, চোখের নিচে কালি, অতিরিক্ত পিপাসা, মাড়ি রোগ, মুখে জ্বালাপোড়া, দাঁতে গর্ত, দাঁত উঁচু বা ফাঁকা, হাসলে মাড়ি দেখা যাওয়া, মুখে ক্ষত, গলা বা কানে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট।

অভিভাবকদের শিশুর নিঃশ্বাসে নজর দেওয়া উচিত, প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শিশুরাও মুখ খুলে শ্বাস নিতে পারে এবং রাতে নাক ডাকতে পারে। যে শিশুরা মুখের মাধ্যমে শ্বাস নেয় তাদের মধ্যেও বড়দের মতো নানা লক্ষণের সঙ্গে থাকতে পারে।

সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধি না হওয়া, বিরক্তি, রাতে কান্নাকাটি, গলায় ব্যথা, ঠোঁট শুষ্ক ও ফাটল, স্কুলে বা কাজে মনোনিবেশে সমস্যা, দিবা নিদ্রা, মুখের আকৃতি পরিবর্তন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বাচ্চাদের উল্লিখিত সমস্যাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার বিষয়টিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেন্টাল চিকিৎসকরা রোগীর রুটিন চেকআপে ইতিহাস ও মুখের অভ্যন্তর পরীক্ষার সময় মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে ও পরবর্তী সময় নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত