একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর মধু। প্রাকৃতিক এই উপাদানে আছে ফাইবার, প্রোটিন এবং প্রাকৃতিক সুগার। এছাড়াও মধুতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ফেনোলিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব পুষ্টিগুণ পেতে কম-বেশি অনেকেই নিয়মিত এক চামচ মধু খেয়েই থাকেন। তাতেই শরীরের অনেক রোগব্যাধির প্রতিকার হয়। তবে এত পুষ্টিগুণে ভরপুর মধু আদৌ সদ্যোজাত শিশুর জন্য নিরাপদ না। সদ্যোজাত শিশুর মুখে মধু ছোঁয়ানোর রীতি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।
আবার অনেকেই মনে করেন মধু খাওয়ালে সর্দি-কাশি একবারে কমে যাবে। পরবর্তী সময়ে শিশুর কথা মধুর হবে। এ-রকম সংস্কার প্রচলিত আছে। অথচ সদ্যোজাতকে প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র স্তন্যপান করানো যাবে। এমনকি পানিও খাওয়ানো যাবে না।
নবজাতকদের মধু খাওয়ালে বোটুলিজম নামক এক রকমের প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। আসলে মধুর মধ্যে ক্লস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামক এক রকমের জীবাণু
থাকতে পারে। এই জীবাণু মধুর মাধ্যমে সদ্যোজাতের শরীরে প্রবেশ করলে প্রাণঘাতী রোগটি হতে পারে। সদ্যোজাত বোটুলিজম রোগে আক্রান্ত হলে বেশ কিছু লক্ষণও প্রকট হয়। সদ্যোজাত সংক্রমিত হলে দেখা যায় যে শিশু হঠাৎ করে দুর্বল বোধ করছে। তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নবজাতকের খাওয়া-দাওয়া কমে যায়। এমনকি বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে এবং বিভিন্ন রকমের নার্ভের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাদের মধু না খাওয়ানোই উচিত। ১ বছরের পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চাইলে সন্তানকে খাটি মধু খাওয়াতে পারেন।
