গুলি করার ভিডিও থাকলেও মামলায় নাম নেই শাহনেওয়াজের

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০২:৩৪ পিএম

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সাথে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের সামনে থেকে আওয়ামী লীগের এক কর্মী গুলি করছেন এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে গুলি করা কর্মী শাহনেওয়াজ বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। সেদিনের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন বিদ্যুত কর্মী মোস্তাক ও ছাত্রদল কর্মী রিপন শীল। ১৫ আগস্ট নিহতের ঘটনায় রিপন শীলের মা রুবী শীল বাদী হয়ে একটি মালমা দায়ের করেন। কিন্তু সেই মামলায় নাম নেই শাহনেওয়াজের।

মামলার এজাহারে দেখা যায়, মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আবু জাহিরসহ ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২’শ জনকে আসামি করা হয়।

৪ আগস্ট সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করার একটি ফুটেজ দেশ রূপান্তরের কাছে এসেছে। একজন সংবাদকর্মীর তোলা ফুটেজে দেখা যায় টাউনহল এলাকায় মধুবন রেষ্টুরেন্টের কাছে পুলিশের সামনেই চোখে সানগ্লাস, মাথায় ক্যাপ, গায়ে জিন্স প্যান্ট ও সাদা টি-শার্ট পড়া এক ব্যক্তি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্র দিয়ে গুলি করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জড়িত কয়েকজন ছাত্র ফুটেজ ও ছবি দেখে নিশ্চিত করেছেন যে ওই অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি হচ্ছেন মোঃ শাহনেওয়াজ। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগের কর্মীও তাকে চিনতে পেরেছেন। তারা আরও জানান তার কোমরে একটা পিস্তল ছিল।

শাহনেওয়াজ  শহরের  পুরান মুন্সেফী এলাকার বাসিন্দা। থাকেন লন্ডনে। সম্প্রতি তিনি দেশে আসেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে না থাকলেও হবিগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আবু জাহিরের একজন আস্থাভাজন। গত দুইবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ ২ আসনে (বানিয়াচং - আজমিরীগঞ্জ)  আওয়ামী লীগের টিকিট পাওয়ার জন্য  বেশ দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন  মো: শাহনেওয়াজ। কিন্ত ভাগ্যে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তার গ্রামের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার তোপখানা মহল্লায়। বাবার নাম রাজা মিয়া। রিপন শীল হত্যা মামলায় আসামিদের তালিকায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর নাম থাকলেও শাহনেওয়াজের নাম নেই।

পুরান মুন্সেফী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা যায় শাহনেওয়াজ নিজেকে ডক্টরেট বলে দাবি করেন। তিনি কখন, কোন বিষয়ে, কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তা অর্জন করেছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

এদিকে রিপন শীল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আজাদ ফুটেজটি তার নজরে এসেছে জানিয়ে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে অস্ত্রটি শর্টগান। মামলার আসামির তালিকায় তার নাম না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেয়া হবেনা নিশ্চয়তা দিতে পারি।’

এদিকে ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন শাহনেওয়াজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত