জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষমতা দখলে বিজেপিবিরোধী শক্তি যতটা তৎপর, ততটাই জোর কদমে আসরে নেমে পড়েছে বিজেপি। বিজেপির লক্ষ্য, মুসলমানপ্রধান এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে প্রথম হিন্দু মুখ্যমন্ত্রী উপহার দেওয়া। বিজেপিবিরোধী শিবির চায়, ক্ষমতা দখলে রেখে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা আদায় করা। এই লক্ষ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী যেমন উপত্যকায় গিয়েছেন, তেমনই জম্মু গিয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রামমাধব। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শ্রীনগরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন খাড়গে ও রাহুল। আলোচনা উঠেছে, ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) ও সিপিএমের নেতাদের সঙ্গেও সম্ভাব্য জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা।
সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজের পর উপত্যকার সব বিজেপিবিরোধী দল জোটবদ্ধ হয়ে গড়ে তুলেছিল ‘গুপকর অ্যালায়েন্স’। সেই জোটে এনসি, পিডিপি, কংগ্রেস ও সিপিএম ছিল। পিপলস কনফারেন্সের সাজ্জাদ লোনও ছিলেন। তবে লোকসভা ভোটের সময় ‘গুপকর অ্যালায়েন্স’ কিন্তু জোটবদ্ধ হয়ে লড়তে পারেনি। আসন ভাগাভাগি নিয়ে এনসি ও পিডিপির মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে দুই দল আলাদাভাবে লড়েছে। এনসির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় কংগ্রেস। এনসির সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস লড়েছিল জম্মু ও উধমপুর আসনে। দুটিতেই তারা হারে। কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে উপত্যকায় তিন আসনে এনসি লড়লেও জয়ী হয় দুটিতে। ওমর আবদুল্লাহ হেরে যান অনন্তনাগ-রাজৌরি আসনে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইঞ্জিনিয়ার রশিদের কাছে।
রাহুল গান্ধী চাইছেন ওই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উপত্যকার সব বিজেপিবিরোধী দলকে একজোট করতে, যাতে বিজেপি ও তার সমর্থনপুষ্ট দলগুলো একটাও আসন না জেতে। রাহুলের এই চাহিদা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এই সফরেই বোঝা যাবে।
তবে জম্মু-কাশ্মীর পৌঁছেই রাহুল বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীনগরে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, যখনই আমরা জানতে পেরেছি যে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মূল কারণ আমরা এখানকার মানুষকে একটি বার্তা দিতে চাই, আমাদের কাছে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার বিষটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিরোধী দলনেতার কথায়, এটি আগে কখনো ঘটেনি। জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের কর্মী সম্মেলনে জম্মু ও কাশ্মীর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (জেকেপিসিসি) সভাপতি তারিক হামিদ কারা, জেকেপিসিসির প্রাক্তন সভাপতি ভিকার রসুল ওয়ানি, কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জি এ মীর, জম্মু-কাশ্মীর কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা পীরজাদা সাঈদ, তারা চাঁদ, রমন ভাল্লা এবং অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাহুল গান্ধী ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লার সঙ্গেও দেখা করবেন।
