আমরা চলাফেরার সময় আমাদের সমাজে বা রাস্তাঘাটে অনেক মানুষকেই নানা ধরনের অন্যায়-অপরাধ করতে দেখি। আমাদের উচিত হলো, যদি আমরা সেই অন্যায়-অপরাধ প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখি, তাহলে তা প্রতিহত করা। হাদিসে এমনটিই বলা হয়েছে। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ যদি কোনো অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দুই হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তাহলে মহান আল্লাহ অতি শিগগিরই তাদের সবাইকে ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন। (সুনানে তিরমিজি)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, হজরত হুজায়ফা ইবনে ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে মহান আল্লাহ শিগগিরই তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সেই দোয়া গ্রহণ করবেন না।
(সুনানে তিরমিজি)
হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যদি তোমাদের মধ্যে কোনো লোক কোনো অন্যায় সংঘটিত হতে দেখে তাহলে সে যেন তার হাত দ্বারা (ক্ষমতা প্রয়োগে) তা প্রতিহত করে। যদি এই সুযোগ তার না থাকে তাহলে সে যেন তার মুখ দ্বারা তা প্রতিহত করে। যদি এই সুযোগও তার না থাকে তাহলে সে যেন তার অন্তর দ্বারা তা প্রতিহত করে (অন্যায়কে ঘৃণা করে)। আর এটা হলো ইমানের সবচেয়ে দুর্বলতম স্তর। (সুনানে তিরমিজি)
সতরাং কোথাও অন্যায় কাজ হতে দেখলে আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব তা প্রতিহত করার জন্য। যদি প্রতিহত করতে না পারি তাহলে মনে মনে ঘৃণা পোষণ করব। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার তওফিক দান করুন।
