ফরিদপুরে পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০১:৫৩ এএম

পাটের রাজধানী হিসেবে খ্যাত ফরিদপুরে এ বছর পাট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। পাট চাষে আশাতীত দাম না পাওয়ায় এ বছর পাটের আবাদ কম হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। সোনালি আঁশের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন পাটচাষিরা।

ফরিদপুর জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৮৬ হাজার ৫২৪ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ কম হয়েছে। দেশের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ পাট উৎপাদিত হয় ফরিদপুরে। এ বছর প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন বেল পাট উৎপাদিত হবে বলে জানান তারা।

জেলার পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষের জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ বপন, কাটা, জাগ দেওয়াÑ এরপর আঁশ ছাড়ানো এবং পাট শুকানোর পর বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু সেই তুলনায় পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিনকে দিন পাট আবাদে কৃষকদের অনাগ্রহ বাড়ছে। এছাড়া, পাট পচানো নিয়ে নানা বিড়ম্বনার কারণেও পাটের আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম কমানোর পাশাপাশি পাটের ন্যায্যমূল্যের দাবি জানান তারা।

বর্তমানে জেলার অধিকাংশ এলাকায় পাট কাটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই অতিরিক্ত খরায় অধিকাংশ জমির পাট রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া পানির অভাবে বর্তমানে পাট জাগ দিতে পারছেন না অনেক কৃষক। সময় মতো পাট কাটতে না পারায় পাটগাছ জমিতেই মরে যাচ্ছে। কিছু জায়গায় পাট কেটে পানির অভাবে জমি ও রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে সময় মতো পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে না পারায় ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তায় দিশেহারা অনেক কৃষক।

ফরিদপুর অঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রনজিৎ কুমার ঘোষ জানান, গত কয়েক বছর আগেই দেশে রেবন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানো মেশিন উদ্ভাবন হয় এবং সেটা আধুনিকায়নও করা হয়। যেটার মাধ্যমে খুব দ্রুত আঁশ ছাড়িয়ে যে কোনো জায়গায় গর্ত করে পানি দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পাটের আঁশ পচানো যাবে। এ ছাড়াও নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে যা পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এ পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া গেলে কৃষকের পাট চাষাবাদে খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। এ পদ্ধতির আশানুরূপ ফল পেলে, তা কৃষকের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারব। এ পদ্ধতিতে পাট পচানো গেলে আর কখনো কৃষকদের পাট কেটে জাগ দেওয়ার জন্য পানি বা রেবন রেটিং পদ্ধতির প্রয়োজন হবে না।

 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর পানি সংকট থাকায় জেলার সব খাল সংস্কার করে পানি সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপশি বিকল্প পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর পদ্ধতি বের করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত