সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩৯০ জন আনসার সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার চারটি থানায় মামলা হয়েছে। এতে চার শতাধিক আনসার সদস্যের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সহিংসতা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, হামলা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোশারফ হোসেনের আদালতে ৩৯০ জন আনসার সদস্যকে হাজির করে চার থানার পুলিশ। তাদের মধ্যে শাহবাগ থানার মামলায় ১৯১ জন, রমনা থানার মামলায় ৯৮, পল্টন থানার মামলায় ৯৫ ও বিমানবন্দর থানার মামলায় ছয় আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চার থানার মামলায় অন্তত ৪২৬ জন আনসার সদস্যের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অন্তত ১০ হাজার অজ্ঞাতনামা আনসার সদস্যদের আসামি করা হয়েছে।
এর আগে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে গত রবিবার দিনভর সচিবালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। রাত পর্যন্ত সচিবালয় থেকে কাউকে বের হতে দেননি তারা। এমনকি রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও সচিবালয়ের সামনে মারধর করেন তারা। সচিবালয় ও আশপাশের সরকারি অফিসের নিচে রাখা গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় সচিবালয়ের ভেতরে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। পরে তারা দুজন সব শিক্ষার্থীদের সচিবালয়ের সামনে আসার আহ্বান জানান। এরপর শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মিলে আনসার সদস্যদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ৬০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন আইসিইউতে রয়েছেন। গুরুতর আহত সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে থাকা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আহতদের দেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আনসারের ছদ্মবেশে এসেছিল, তাদের দাবি আদায়ের এজেন্ডা ছিল না। বিশৃঙ্খলা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে তারা ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। যে ছাত্ররা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, যারা আমাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ, তাদের রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মেরেছে। তাদের দাবি ছিল রাত ১০টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন করে জাতীয়করণ করতে হবে। অসম্ভব ও অবাস্তব দাবি তুলে ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন শিক্ষার্থীরা। যেভাবে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা সফল হবেন না। প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘মনে হচ্ছে দাবি আদায়ের মৌসুম, ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটা দাবির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে। যেখানে সরকারের ব্যয় বাড়বে। সরকারের রাজস্ব তো হঠাৎ করে রাতারাতি বেড়ে যাবে না। কীভাবে দাবি মেটাব, টাকা ছাপতে পারি, তবে টাকা ছাপলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। তখন সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সব কিছু হবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ঢামেক হাসপাতারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
