শিক্ষা পরামর্শ

গড়ে তোলো পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ১২:৫৪ এএম

দীর্ঘদিন বই থেকে দূরে থাকলে হঠাৎ করে পড়াশোনায় মন বসে না। তখন প্রয়োজন হয় বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় ভালো করতে পারে না শুধু পাঠ্যবই ভীতির কারণে। ধাপে ধাপে পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে পরিচয়, বই পরিচিতি, অনুশীলন ও অনুশীলনমূলক কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে এ ভীতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার উপায় নিয়ে লিখেছেন এনাম-উজ-জামান

প্রথম ধাপ

পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই বইটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করো। প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ, কত মোটা, আয়তন কেমন ইত্যাদি। এরপর একটু সময় নিয়ে বইটির সূচিপত্র, বিষয়বস্তু, শিরোনাম, উপশিরোনাম, টিকা, পরিশিষ্ট ইত্যাদি একনজরে দেখে যাও। এতে বইটি সম্পর্কে তোমার একটি সার্বিক ধারণার সৃষ্টি হবে। কোনো বিষয় সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশ ভয়ের কারণ হলো, সেই জিনিস সম্পর্কে ধারণা না থাকা। বইটির বিষয়বস্তু, আগের বই থেকে তার পার্থক্য এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা থাকার কারণে পাঠ্যবই সম্পর্কে অমূলক ভয় দূর হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ধাপ

দ্বিতীয় ধাপে বইটি সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে হবে। সাধারণত ক্লাসে পড়ার প্রয়োজনেই আমরা বিস্তারিত পাঠে আগ্রহী হই। কিন্তু মনে রাখতে হবে পড়তে বলা হচ্ছে বলে পড়া কিংবা শিক্ষক বা অভিভাবকের চাপে পড়া নিজের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে না। তাই জানার জন্য পড়া বা নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্য পড়ার জন্য মনকে তৈরি করতে হব। তখন বিস্তারিত পড়ার ধাপটি আনন্দময় হয়ে উঠবে। শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য পড়তে হচ্ছে এমন আর মনে হবে না। ফলে পাঠ্যবইকে ভীতিকর না মনে হলেও এর প্রতি যে বিতৃষ্ণাভাব থাকে তা দূর হবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি পাতার প্রতিটি লাইন পড়তে হবে। বুঝতে হবে। যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ তা হাইলাইট মার্কার দিয়ে মার্ক করে রাখো। তাহলে পরে শিক্ষক পড়ানোর সময় তুমি সহজেই বুঝতে পারবে। এই সুযোগে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোও চিহ্নিত করে রাখো।

তৃতীয় ধাপ

তৃতীয় ধাপ হলো পর্যালোচনা করে পড়া। বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়ার বিষয়টি দেখো। তোমার পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা দিয়ে বইয়ে যা বলা হয়েছে তা বিবেচনা করো। তোমার অভিজ্ঞতা ও এবং বইয়ে বক্তব্য কি একই? বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলে তার কারণ নোট করো। যদি ভিন্ন মত থাকে, তাও লিখে রাখো। এর ফলে পাঠ্যবইয়ের বিষয়ের সঙ্গে তোমার মস্তিষ্কের যোগসূত্র স্থাপিত হবে। এখন আর তোমাকে না বুঝে মুখস্থ করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

চতুর্থ ধাপ

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ পার হয়ে পাঠ্যবইটিকে আবার সাধারণভাবে পড়ে যাও। এর ফলে পাঠ্যবইটি তোমার কাছে নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। আগের থেকে সহজবোধ্য হয়ে উঠবে বিষয়গুলো। এই পাঠ আগের তিন ধাপের পাঠের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে। চতুর্থবার পড়ার কারণে পড়ার বিষয়গুলো মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে জায়গা করতে সাহায্য করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত