শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন বানভাসিরা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ১০:১০ এএম

ভাত কি জিনিস গত একসপ্তাহ ধরে চোখে দেখা হয় নাই। সবাই শুকনা খাবার দিয়ে যায়। ওটা খেয়ে দিন পার করছি। মানুষ যে কত অসহায় বিপদে পড়লে বুঝা যায়। আজকে মনে হয় ১৯৯১ সালের সেই দিনের মতোন অবস্থা হয়ে গেছে। মানুষ ভাত খেতে পায়নি। পুকুরের পানি, চিড়া মুড়ি খেয়ে দিন পার করছে। অনেকটা অসহায় হয়ে এসব কথা বলছিলেন গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে পানিতে ডুবে যাওয়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাকাশি গ্রামের মকবুল হোসেন (৬২)।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ এক সপ্তাহ যাবত পানিবন্দি। ৭ জনের সংসার তার। পানি আসতে দেখে পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রকে রেখে আসছেন। একা একা বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন তিনি। বাড়ির কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়েছে। বয়স হয়েছে নানা রোগে আক্রান্ত তিনি। গত একসপ্তাহ ধরে ঠিকমতোন ঔষধ খেতে পারছেন না। প্রতি মুহূর্তে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আবার বর্তমানে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। এসব রোগের ওষুধ এবং চিকিৎসা সেবা সংকটে ভোগান্তি তাদের চরমে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি মাত্র শুনেছি। বৃদ্ধাকে সহয়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। আকস্মিক বন্যায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৭৫টি গ্রামের মধ্যে ৬৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৭০ হাজার বানভাসী পরিবার।’

তিনি আরও বলেন, ’উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ, মাছের ঘের, মুরগির খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়েছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট, কালভার্ট-ব্রিজ। নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী। ক্ষতির মুখে পড়েছে গৃহপালিত গবাদিপশু। এবার বন্যায় উপজেলার মোট আয়তনের ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

উল্লেখ্য- গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে ওই রাতেই বুড়িচং উপজেলা প্লাবিত হয়। পরে গোমতীর বাঁধভাঙা পানি ঢুকতে শুরু করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। একইসঙ্গে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের সালদা নদীর বাঁধ ভেঙেও এ উপজেলায় পানি ঢুকতে শুরু করে। দুই নদীর বাঁধভাঙা পানিতে অল্প সময়েই ব্রাহ্মণপাড়ার প্রায় সব ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এতে ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত