ইসলামে নারীর মর্যাদাকে উচ্চাসনে রাখা হয়েছে। আবার নারী সম্প্রদায়ের সীমালঙ্ঘনের কারণেও তাদের কঠোর শাস্তির কথা কোরআন ও হাদিসে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তির ওপর মহান আল্লাহ লানত (অভিসম্পাত) করার মানে হলো তার ওপর আল্লাহর রাগ ও ক্রোধান্বিত হওয়া। আর যার ওপর তিনি ক্রোধান্বিত হন তার ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালা লানত করেন এমন সব নারীর ওপর যারা অন্যের অঙ্গে উল্কি করে এবং নিজের অঙ্গেও করায়, যারা ভ্রু বা কপালের চুল উপড়িয়ে ফেলে। (সহিহ বোখারি)
যেসব পুরুষ নারীর সাদৃশ্য ধারণ করে এবং যেসব নারী পুরুষের সাদৃশ্য ধারণ করে চলাফেরা করে তাদের ওপর মহান আল্লাহ লানত (অভিসম্পাত) করেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) নারীর বেশধারী পুরুষদের এবং পুরুষের বেশধারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি)। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন ওইসব পুরুষকে যারা নারীর অনুরূপ পোশাক পরিধান করে এবং ওইসব নারীকে যারা পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরিধান করে। (সুনানে আবু দাউদ)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, সে নারীর ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, যে অন্য নারীর মাথায় পরচুলা মিশ্রিত করে কিংবা নিজ মাথায় পরচুলা মিশ্রিত করায় এবং যে অন্যের গায়ে উল্কি করে অথবা নিজের গায়ে উল্কি করায়। (সহিহ বোখারি)
মহিলাদের জন্য কোনো মানুষের চুল পরচুলা হিসেবে ব্যবহার করা জায়েজ নেই। অবশ্য পরচুলা যদি কোনো মানুষের চুল না হয়ে শূকর ব্যতীত কোনো পশুর হয় অথবা কৃত্রিম চুল হয় তাহলে তা ব্যবহার করা অবৈধ নয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, পশম দিয়ে তৈরি পরচুলা ব্যবহার করতে সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)
সুতরাং কেনো ধরনের নকল চুল ব্যবহার করা জায়েজ নেই, এ কথা ব্যাপকভাবে বলা ঠিক নয়। আর কৃত্রিম চুল লাগালে তখনই জায়েজ হবে যখন তা শুধুই সৌন্দর্যচর্চা পর্যন্ত সীমিত থাকবে। কিন্তু এ ধরনের চুল ব্যবহার করার দ্বারা যদি প্রতারণা উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তা জায়েজ হবে না। (রাদ্দুল মুহতার ৬/৩৭২)
