টানা তিন মাস বাড়ল ১২ কেজির এলপিজির দাম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৪ এএম

আবারও বাড়ল ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। চলতি মাসের জন্য এ দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গাড়িতে ব্যবহার্য প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৫৬ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা ২৬ পয়সা। এ নিয়ে টানা তিন মাস এলপিজির দাম বাড়ল।

সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র এক থেকে দেড় শতাংশ মাত্র। আবার যাও সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

গতকাল সোমবার নতুন এ দর ঘোষণা করেছেন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। ওইদিন সন্ধা ৬টা থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।

জুলাই মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩ টাকা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৬৬ টাকা। পরের মাস আগস্টে ১১ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে অটোগ্যাস এবং অন্যান্য আকারের এলপিজির দামও বেড়েছে গত মাসে।

ঘোষিত দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১১৪ টাকা ৭৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৮ টাকা ৪৪ পয়সা। সে অনুযায়ী সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের বোতলজাত এলপিজির দাম বেড়েছে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেটিকুলেডেট পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১১৪ টাকা ৬২ পয়সা এবং গ্যাসীয় এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৫৪ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

বাজারে কমিশনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তারা অভিযোগ করছেন। এ ক্ষেত্রে বিইআরসির বক্তব্য হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের একটি মিশ্রিত অনুপাত। দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে বিইআরসি। এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর ইনভয়েস মূল্যকে আমলে নিয়ে দর ঘোষণা করা হয়। দেশে ২০টি কোম্পানি এলপিজির কাঁচামাল আমদানি করে। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে প্রোপেন-বিউটেনকে ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রিত করে এলপিজি তৈরি করা হয়।

বিইআরসি জানায়, সৌদি আরামকোর মাধ্যমে নির্ধারণ করা দাম অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের গড় মূল্য প্রতি টনে ৫৯৮ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছরের জুলাই মাসে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। আট মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১ হাজার ৪৮২ টাকা দাঁড়িয়েছিল। পরে ওই দাম কোনো মাসে বেড়েছে, আবার কোনো মাসে কমেছে।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে। এই বাজারের অন্তত ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে।

পাইপলাইনের গ্যাসের সংকটে এলপি গ্যাস দেশ জুড়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে অনেক বাসায় এলপিজি নিত্যপণ্য হয়ে উঠেছে। বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত