শাজাহান খানসহ ২ জনকে তলব

দুর্জয়সহ ৩ জনের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৯ এএম

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়সহ তিনজনের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্যরা হলেন রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মুনসুর। এ ছাড়া সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও সাবেক চিফ হুইপ নুর ই আলম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। গতকাল মঙ্গলবার কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন এসব তথ্য জানান।

দুদক সচিব বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, প্রকল্পে অনিয়মসহ দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট এ বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্জয় অবৈধভাবে আরিচা নৌ-টার্মিনালের কাছে বিআইডব্লিউটিএর জমি দখলপূর্বক আত্মসাৎ করেন। তার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দুর্জয়ের এলাকায় বৈকণ্ঠপুর, ঘিওরসহ মানিকগঞ্জে ১২ বিঘা জমি আছে। মানিকগঞ্জ শহরে একতলা বাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকে ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তার মালিকানায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদকের গোয়েন্দা শাখা।

রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার নির্বাচনী এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিয়োগে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তার নিজ নামে রাজশাহী, ঢাকা ও গাজীপুরে কৃষি ও অকৃষিজমিসহ তাদের পরিবারের নামে সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সম্পদ থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক।

অন্যদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাছিমের ছেলে তমাল মুনসুরের বিরুদ্ধে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৭৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকাতে রিয়েল এস্টেট বিজনেস, আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকাতে অবস্থিত আফতাব স্কাই ভিউ কনডোমোনিয়াম টাওয়ারে ১২টি ফ্ল্যাট ও চারটি পার্কিং স্পেস ক্রয়সহ বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার করেছেন।

দুদকের তথ্যমতে, গত ২০ আগস্ট সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও সাবেক চিফ হুইপ নুর ই আলম চৌধুরীর দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ৪ সেপ্টেম্বর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। শাজাহান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সালে তার সম্পদ ছিল প্রায় ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৭ টাকার। বর্তমানে শাজাহান খানের ঢাকা ও শরীয়তপুরে ফ্ল্যাট, জমি, দুটি গাড়ি, স্ত্রীর নামে রাজউকের ১০ কাঠার প্লট, ৯৬ ভরি সোনা রয়েছে। এ ছাড়া তার দুটি বাস, একটি গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ১২ কোটি ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৬০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে তার সম্পদ অনেক বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত