চসিক কাউন্সিলর বাবুর ভুয়া সনদ ইস্যুর প্রমাণ পেল পিবিআই

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:০০ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডেরে সেই কাউন্সিলর মো. সাহেদ ইকবাল বাবুর বিরুদ্ধে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ ইস্যূর প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই মেট্রো ইউনিটের উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবীর গত ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন সুত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

এর আগে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কুলগাঁও বালুছড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন নামের এক বাসিন্দা কাউন্সিলর মো. সাহেদ ইকবাল বাবুসহ ১৬জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে তিনি সরকারি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা তার পিতার মালিকানাধীন ৭ শতক জমির ২ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নিতে ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে মামলার ১৬জন বিবাদীর মধ্যে কাউন্সিলর বাবুসহ ১২জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৬/ ৪১৯/৪২০/৪৬৬/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারার অপরাধ সংগঠনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হানিফ নামের এক বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া আবুল হাশেম নামে এক বিবাদী মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সোহেল নামের আরেক বিবাদীর নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে পিবিআই কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার বিষয়টি প্রসিকিউশন শাখা সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- কথিত জমির মালিক মোহাম্মদ হাশেমের সাত ছেলে-মেয়ে যথাক্রমে, মো. জানে আলম (৫৬), মো. নুরুল ইসলাম (৫৩), মো. নুরুল আমিন (৪৬), নুর বেগম (৭১), নুর নাহার বেগম (৫৮), মিনহার বেগম ওরফে মিনা বেগম (৪৮), শাহনাজ বেগম (৪০), একই এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে বখতেয়ার মিয়া (৫০), নুর মিয়ার ছেলে মো. সরওয়ার উদ্দিন (৪৩), পটিয়া মনসা এলাকার কদমআলীর ছেলে মোহাম্মদ মুছা (৪৫), নগরের কোরবানিগঞ্জ এলাকার নজির আহমদের ছেলে মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (৪৭) ।

প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন মামলার বাদী দিনমজুর। অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন নয়। নালিশী সম্পত্তির মালিক ছিলেন বাদীর পিতা মোহাম্মদ হোসেন মিয়া। তার নামে বিএস খতিয়ান (১৩৯৪) সৃজিত আছে। সম্পত্তি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় ২০০০ সালের ৭ মার্চ মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে এক স্ত্রী অলী জান খাতুন, এক ছেলে দেলোয়ার হোসেন (বাদী), এক কন্যা নুর জাহানকে ওয়ারিশ রেখে যান। কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু সব জেনে বুঝে মামলার ২ থেকে ৮ নং বিবাদীকে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ দিয়েছেন। অন্যায় লাভের উদ্দেশ্যে তিনি অপরাধ সংগঠনে অপরাপর বিবাদীদের সহায়তা করেছেন। এজন্য তিনি ফৌজদারি দন্ডবিধির ১৯৩ ধারার অপরাধ করেছেন।

মামলার তদন্ত তদারক সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কের পাশে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে কুলগাঁও মৌজায় বাস-ট্রাক টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর ‘ম্যাচিং ফান্ড’র শর্ত ছাড়াই বাসট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়নে এক হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত