কখনো কখনো এমন লোকের দেখা মিলবে যাদের কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। মুখে এক কথা বলছে, তো কাজে আরেকটি প্রকাশ করছে। কিংবা বাহ্যত নিজেকে জনসম্মুখে ভালো ও সৎ হিসেবে উপস্থাপন করলেও গোপনে অবৈধ-অনাচারের সঙ্গে যুক্ত আছে। এমনকি মানুষের উপস্থিতিতে সুন্দর ও ভালো কথা বলে লোকজনকে প্রভাবিত করে। আর বাস্তবে আড়ালে মানুষের ক্ষতি করে। নিঃসন্দেহে এ জাতীয় কাজ হলো মুনাফিকি বা দ্বিচারিতা। যাকে কপটতাও বলা হয়। এমন আচরণকারীকে কেউ সম্মান ও শ্রদ্ধা করে না। এমন আচরণ দ্বারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয়। আর কেউ ধোঁকাবাজকে পছন্দ করে না।
পবিত্র কোরআনে এমন মুনাফিকদের জন্য শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘(হে নবী আপনি) মুনাফিকদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা নিসা ১৩৮)
মুনাফিক শ্রেণির লোকদের ঠিকানা ও আশ্রয় হবে জাহান্নামের একেবারে নিম্নস্তরে। তাদের জন্য কোনো সাহায্য বা সুপারিশেরও কেউ থাকবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে অবস্থান করবে। আপনি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারীও পাবেন না।’ (সুরা নিসা ১৪৫)
এ আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে তাফসিরে ইবনে কাসিরে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মুনাফিকদের আগুনের বাক্সে পুরে জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে। তারা সেটার মধ্যে জ¦লতে-পুড়তে থাকবে। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, এ বাক্সটি হবে লোহার, তার চারদিক সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। কেউ এমন হবে না যে, তাকে কোনো প্রকারের সাহায্য করতে পারবে বা তাকে জাহান্নাম হতে বের করতে পারবে। অথবা তার শাস্তি কিছু কম করাতে পারবে। তবে হ্যাঁ, এদের মধ্যে যারা তওবা করবে, লজ্জিত হবে এবং ওই পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, সংশোধিত হবে, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সৎকাজ সম্পাদন করবে, লোক দেখানো কাজকে আন্তরিকতার সঙ্গে পরিহার করবে এবং মহান আল্লাহর দ্বীনকে দৃঢ়রূপে ধারণ করবে তিনি তাদের তওবা কবুল করবেন, তাদের খাঁটি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উত্তম পুণ্যের অধিকারী করবেন।
হাদিসে মুনাফিকের কিছু নিদর্শন বা আলামতও বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের নিদর্শন বা চিহ্ন তিনটি। এক. যখন কোনো কথা বলে মিথ্যা বলে। দুই. যখন কোনো অঙ্গীকার করে, তা ভেঙে ফেলে। তিন. (তার কাছে কারও কোনো কিছু) আমানত রাখা হলে (সে তার) খেয়ানত করে। (সহিহ বুখারি)
এজন্য মিথ্যা বলা পরিহার করতে হবে। কাউকে কিছুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে, অবশ্যই তা পূর্ণ করার চেষ্টা করতে হবে। আর কেউ যদি অর্থ-সম্পদ জমা রাখতে চায়, তবে তার অর্থ-সম্পদ হেফাজত করা। নষ্ট বা আত্মসাৎ না করা। মহান আল্লাহ আমাদের এ জাতীয় মন্দ কাজ বর্জন করে পরিপূর্ণ ইমানদার হওয়ার তওফিক দান করুন।
