ইসলামে মন্দ কাজের কোনো স্থান নেই। ইসলাম সব সময় মানুষকে মন্দ, ব্যভিচার ও অন্যায় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ প্রধান করে। মন্দকাজ ব্যাপক হারে করার কারণে পৃথিবীর একটি জাতিকে জনবসতিসহ উল্টিয়ে দিয়েছিলেন মহান আল্লাহ। সেই জনপদ এখন মৃত সাগর নামে পরিচিত। পৃথিবীতে গণহারে মন্দ কাজ হলে বিভিন্নভাবে বিপদাপদ আসে। অশ্লীল এবং সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকাটাই একজন খাঁটি মুমিনের পরিচয় বহন করে।
যেসব কাজের মাধ্যমে মানুষ অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মদ ও জুয়া। এ বিষয়ে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও জুয়ার তীর অপবিত্র, শয়তানি কাজ। সুতরাং এসব পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করো।’ (সুরা মায়েদা ৯০)
একটি সমাজকে খুব সহজে ধ্বংস করার জন্য সেই সমাজের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়াটাই যথেষ্ট। অশ্লীলতা এখন প্রবাহমান পানির মতো সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সুন্দর, সুষ্ঠু ও আদর্শ একটি সমাজব্যবস্থা।
এখন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল ও অসামাজিক ভিডিও কনটেন্টে সয়লাব, যা থেকে অশ্লীলতা ছাড়া অন্য কিছু শেখার নেই। যারা সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয় তাদের ব্যাপারে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা পছন্দ করে যে, ইমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নুর ১৯)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, হে মুহাজিরগণ! তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন তোমরা সেগুলোর সম্মুখীন না হও। যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোনো জাতি ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের ওপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদাপদ। যখন জাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি ভূপৃষ্ঠে চতুষ্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকত, তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না। যখন কোনো জাতি আল্লাহ ও তার রাসুলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সব কিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকরা আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন। (ইবনে মাজাহ ৪০১৯)
