চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের একটি কাঁচা সড়ক পাকা করতে সেটির মাঝ বরাবর মাটি কেটে রেখে কাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। এরপর এক বছরের বেশি সময় ধরে ওই অবস্থায়ই পড়ে আছে রাস্তাটি। এতে ওই এলাকার অন্তত ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সম্প্রতি বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের দোনারখাল থেকে ডাঙ্গারচর ঘাট পর্যন্ত ১ দশমিক ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য মাঝ বরাবর মাটি কেটে রাখা হয়েছে। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টির পানি জমে ওই মাটি কাদায় পরিণত হয়েছে। লোকজন অতি কষ্টে চলাচল করছেন।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ইউনিয়নের দোনারখাল থেকে ডাঙ্গারচর ঘাট পর্যন্ত ১ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়কের টেন্ডার হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। এক কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দের এ কাজ পান মো. ইরফানুল করিম নামের এক ঠিকাদার। ওই বছরের জুন মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এরপর জুলাই মাসের প্রথম দিকে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। এ বছরের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কর্ণফুলী নদী পার হয়ে চট্টগ্রাম শহরে যেতে ডাঙ্গারচর ঘাটে পৌঁছার একমাত্র সড়ক এটি। এলাকার শত শত বাসিন্দা, পোশাকশ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা এ পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। এছাড়া এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সবজি ও দুধ বিক্রি করতে শহরে নেওয়া হয় এ পথে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ ৫ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথেই ডাঙ্গারচর ঘাটে যাচ্ছেন। জুলধা ইউপির সাবেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকা করার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রাস্তা খুঁড়েই কাজ বন্ধ রাখায় এলাকার লোকজনের চলাচলের অনেক অসুবিধা হচ্ছে।
জানতে চাইলে ঠিকাদার ইরফানুল করিম বলেন, ‘কাজ শুরুর পর স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বাধায় মাস দেড়েক কাজ বন্ধ রাখা হয়। এরপর এলাকাবাসীর অনুরোধে কাজ করতে গেলে ভারী বৃষ্টির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে আবার সড়ক বিভাগের রাস্তা দাবি করে আপত্তি আসে। এ কারণে কাজের অগ্রগতি হয়নি। তবে এলজিইডি অফিস সড়ক বিভাগের অনাপত্তি নিশ্চিত করলে কাজ শুরু করা হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘কাজ করতে এখন সড়ক বিভাগের কোনো আপত্তি নেই। বৃষ্টির কারণ ছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাজটি হয়ে ওঠেনি। ঠিকাদারকে ডেকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। তিনি শিগগিরই কাজ শুরু করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
