বিএনপির বৈঠকে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৯ এএম

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর বিভিন্ন পর্যায়ে তার সময়ে নিয়োগ হওয়া লোকদের পুনর্বাসনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটি মনে করছে, প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারকে সহায়তাকারীরা এখনো পদত্যাগ করেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও অনেক জায়গায় তাদের নিয়োগ বাতিল করেনি। এক মাস পেরোলেও ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। স্বৈরাচারের সহায়কদের সরিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষদের নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছে দলটি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকের অধিকাংশ সময় জুড়ে ছিল বর্তমান সরকারের এক মাসের কর্মকা- নিয়ে পর্যালোচনা। রাত পৌনে ৯টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সক্রিয় প্রায় সব নেতাই উপস্থিত ছিলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক সূত্রগুলো বলছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। বৈঠকের শুরুতে এ সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন সিনিয়র এক নেতা। প্রায় সবাই এ বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তী সরকারে আলী ইমাম মজুমদারকে উপদেষ্টা নিয়োগ করা নিয়ে কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সিনিয়র এক নেতা বলেন, তিনি গত সরকারের পক্ষের লোক। তার বিষয়ে বিএনপি শিগগির তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবে এবং সরকারকেও তা জানাবে।

এ সরকার গত এক মাসে ডিসি (জেলা প্রশাসক) এবং সচিব পর্যায়ে প্রশাসনিক যে রদবদল করেছে, তাতে আপত্তি রয়েছে বিএনপির।

স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে জানান, সরকার যে রদবদল করেছে সেটা নিরপেক্ষ হয়নি। এখানে স্বৈরাচারের দোসরদের অনেকেই দায়িত্ব পেয়েছেন। এ রদবদল নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সরকার কোনো আলোচনাও করেনি। দ্রুততম সময়ে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার গত এক মাসে যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেবে সেটিও দৃশ্যমান নয়। বিএনপি চায়, দ্রুততম সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু হোক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনের বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করুক।

ওই নেতা বলেন, বিএনপির নেতাদের নিয়ে ছাত্র সমন্বয়কদের কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রাখছে। অথচ বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ১৬ বছর ধরে নির্যাতিত ও গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী আন্দোলনে নিহতও হয়েছে। ছাত্র সমন্বয়কদের যথাযথ গাইডলাইন প্রয়োজন। দুজন সমন্বয়ক অন্তর্বর্তী সরকারেরও অংশ। সুতরাং এ ব্যাপারে তাদের ভূমিকা থাকা দরকার। দীর্ঘ সময় লড়াই করা বিএনপি নেতাদের নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য জনগণ মেনে নেবে না। ছাত্র সমন্বয়করা এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রাখলে মাঠপর্যায়ে এক ধরনের ভুল বার্তা যাবে। ঢাকার বাইরে সফরের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে গত রবিবার জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এক নেতা প্রশ্ন রাখেন, কোন প্রটোকলে ও বিবেচনায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে না থাকা ব্যক্তিদের এ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগকে জামায়াত আমিরের ক্ষমা করে দেওয়ার প্রসঙ্গটিও আলোচনায় আসে। এটা জনগণের চাওয়া বা মতামতের প্রতিফলন নয় বলে জানানো হয়। বরং জনগণ আওয়ামী লীগের বিচার চায়। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নতুন করার ও সংগঠন গতিশীল করার প্রস্তাব আসে বৈঠকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত