আমাদের জীবনে ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি স্ট্রেসের মাত্রাও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিদ্রাহীনতা। সবকিছু যোগফল হলো চোখের চারদিকে ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ। চোখের চারদিকে বিশেষত চোখের নিচের কালো দাগ নিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় ভোগেন। সংকোচ বোধও করেন। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মানসিক চিন্তামুক্ত থাকলে ডার্ক সার্কেল প্রতিকার করা যায়।
কেন হয় : চোখের চারদিকের অতি সূক্ষ্ম রক্তনালি চিকন হয়ে যাওয়া ও কোলাজেন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সমস্যার শুরু হয়। একজন সুস্থ মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম বা মাত্রাতিরিক্ত ঘুমেও এমনটা হতে পারে। ৭-৮ বছরের পর থেকে যেকোনো বয়সেই এটা দেখা দিতে পারে। বার্ধ্যকে মুখের ফ্যাট ও কোলাজেন টিস্যু কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ মানুষেরই এ সময় ডার্ক সার্কেল বেশি হয়।
আধুনিক চিকিৎসা
রেটিনয়েডস : রেটিনয়েড ক্রিম ব্যবহার করা, যা চোখের নিচের ত্বক ভালো করে ও কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে।
লাইটেনিং এজেন্ট : হাইড্রোকুইনোন, কোজিক অ্যাসিড বা ভিটামিন সি-এর মতো উপাদান ধারণকারী টপিকাল এজেন্টগুলো হাইপারপিগমেন্টযুক্ত জায়গাগুলোকে হালকা করে ডার্ক সার্কেল কমায়।
রাসায়নিক খোসা : পিগমেন্টেশন সমাধান এবং কোলাজেন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে, বিশেষ করে যেগুলোতে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা ট্রাইক্লোরোএসেটিক অ্যাসিড রয়েছে।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার
হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো ইনজেকশনযোগ্য ফিলারগুলো চোখের নিচের অংশ ফাঁপা বা ভলিউম কমায়। পাশাপাশি ডার্ক সার্কেল কমাতে পারে।
আইপিএল থেরাপি : রক্তনালি এবং পিগমেন্টেশন কমায় এবং চোখের নিচে লালভাব এবং ডার্ক সার্কেল দূর করে।
ভগ্নাংশ লেজার : ভগ্নাংশ লেজারের চিকিৎসা কোলাজেন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে, ত্বকের গঠন উন্নত এবং পিগমেন্টেশন কমায়।
প্লাজমা থেরাপি : পিআরপি
থেরাপিতে রোগীর রক্তের সামান্য নিয়ে প্লাটিলেটকে ঘনীভূত করে তারপর চোখের নিচের অংশে পিআরপি ইনজেকশন দেওয়া জড়িত।
সার্জারি : ব্লেফারোপ্লাস্টি : যে ক্ষেত্রে চোখের নিচে অতিরিক্ত চর্বি বা ঝুলে যাওয়া ত্বকের কারণে ডার্ক সার্কেল দেখা দেয়, ব্লেফারোপ্লাস্টি নামে পরিচিত একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি অতিরিক্ত চর্বি দূর করে ডার্ক সার্কেল কমায়।
ওষুধ : একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টিহিস্টামিন বা টপিকাল স্টেরয়েডের মতো ওষুধ দিতে পারেন ডার্ক সার্কেল প্রতিকারে।
প্রতিরোধ : জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ডার্ক সার্কেল কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম, হালকা শারীরিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাসে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল রাখা এটি প্রতিরোধে কার্যকর। ঘরোয়া কিছু পদ্ধতিতে যত্ন যেমন চোখের চারদিকে ঠান্ডা সেঁক নেওয়া, নিয়মিত ম্যাসাজ করা, ঠান্ডা আলু বা শসার প্যাক ব্যবহার করা। দিনে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা ডার্ক সার্কেল কমাতে সাহায্য করবে।
